আফজাল হোসেন। একটি নাম একজন তারকা। একটি নক্ষত্র প্রতিষ্ঠান। একাধারে চিত্রশিল্পী, অভিনয় শিল্পী নির্মাতা এবং বিজ্ঞাপন নির্মাতা এবং একজন স্বনামধন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
তার সাথে কবে কখন কোথায় দেখা হয়েছিলো আজ আর মনে নেই। তবে আমার যতটুকু মনে পড়ে, ঢাকার বেইলি রোডে ঢাকা থিয়েটারের নাটকের মঞ্চে একজন দুর্দান্ত অভিনেতা, সেট ডিজাইনার এবং অত্যন্ত সৃজনশীল একজন মানুষ হিসেবে দেখেছিলাম তাঁকে।
আমাদের তখন লেখালেখিটা শুরু, তখন তাঁর এবং ইমদাদুল হক মিলনের দুই মলাটে এক বই ‘যুবকদ্বয়’ পড়ে অভিভূত হয়েছিলাম। মনে হয়েছিলো আমাদের কথাই বলা হয়েছে বইটিতে। তার বইয়ের প্রচ্ছদগুলোও তাঁর করা। বইয়ের প্রচ্ছদে ছিলো নান্দনিক ডিজাইন এবং আধুনিকতার ছোঁয়া।
শিল্পী হিসেবে তাঁর নিজের ছবি আঁকা, জল রং তেল রং এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যে ছবি একেছেন তিনি তাও অনেক আকর্ষণীয় এবং চোখের আনন্দ। তাহলে আমরা কী বলতে পারি? তাহলে তিনি নাটকের মানুষ, তিনি লেখক, তিনি অভিনয়ের মানুষ? নাকি কবি! তার লেখা অসাধারণ কিছু লেখা ও কবিতা আমরা পড়েছি।
বাংলাদেশের আধুনিক বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি সবার আগে তাঁর নাম উজ্জ্বল করেছেন। সাংবাদিকতা, লেখালেখি, অভিনয়শিল্পের পাশাপাশি নানা পোকা মাথায় নিয়ে তাঁর সাথে পরিচয় হবার সুযোগ হয়েছিলো আমার।
তাঁর সাথে ছবি তুলে ফ্রেমে বাঁধাই করে রেখেছিও আমি। সে হিসেবে আমি তার ভক্তও বলতে পারি। শিল্পমাধ্যমের বিচরণ করে এই বহুমাত্রিক আফজাল হোসেনকে খুব কম কথায় উপস্থাপনা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
আমি বলতে পারি যে তার মাত্রা এবং টকিজে যাতায়ত করে তাঁর প্রতি গভীরভাবে জানার চেষ্টা করেছি। তিনি অনেক স্নেহপ্রবণ ছিলেন সমসাময়িক তরুণদের প্রশ্রয় দিতে ভালোবাসেন। তার একটি প্রমাণ আমার রয়েছে। একবার আমার বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনিসুল হকের গল্প থেকে আমার নাট্যরূপ এবং আমার নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের একটি সুযোগ হয়েছিলো।
নায়ক অরিত্রে অভিনয়ের সময় তাঁর চোখে পড়ে আমাকে। নাটক চলাকালীন সময়ে হঠাৎ তিনি আমাকে ফোন করলেন, রাজু আমি তোমার নাটক দেখছি। আমি অনেকটা বাদামের খোসায় লুকিয়ে যাচ্ছিলাম। তাৎক্ষণিক অভিভূত হয়ে আমি সেদিন বলেছিলাম আমি আপনার সাথে একটি ছবি বাঁধিয়ে রেখেছি।
আমি আসলে শরীয়তপুর থেকে এসেছি। অভিনয়ে আমার অনেক ভুল থাকতে পারে, আপনি দেখছেন! এটা অনেক বড় বিষয়। কিন্তু তিনি হেসে বললেন, তাতে কী হয়েছে। আমি তো সাতক্ষীরা থেকে এসেছি। চালিয়ে যাও রাজু! আমি সেদিন আরও অভিভূত হয়েছি।
ইমপ্রেস টেলিফিল্মসে কাজ করার সুবাদে, ফরিদুর রেজা সাগর এবং শাইখ সিরাজের বন্ধু হিসাবে তাঁকে আমি আরও অনেক কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, নির্মাতা, বহুমাত্রিক প্রতিভার এই মানুষটি আমাদের কাছে আছেন থাকবেন চিরকাল। জয়তু শিল্পের জাদুকর আফজাল হোসেন।








