কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ফজলুর রহমান ওরফে ফজু (২০) হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন কটিয়াদী থানার নওবাড়ীয় এলাকার মৃত বকুল মিয়ার ছেলে মোঃ তৌফিক (৩৯), একই উপজেলার পূর্ব পুরুরা এলাকার আঃ আমিনের ছেলে হজরত আলী (৪৩) এবং মৃত মালী ওরফে আলী হোসেনের ছেলে অহিদ মিয়া। এদের মধ্যে মোঃ তৈৗফিক পলাতক রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউট আবু নাছের ফারুক মুহাম্মদ সঞ্জু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলাধীন নওবাড়ী এলাকায় ফজলুর রহমানের সাথে আসামীদের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি ও পুকুর পাড়ের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গ্রামে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। কিন্তু কোন সমাধান না হওয়ায় বিরোধ আরও প্রকোপ আকার ধারণ করে। এরপর থেকে তৌফিক মিয়া জায়গার জন্য বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করলেও এক পর্যায়ে নিহত ফজলুর রহমানের সাথে তৈৗফিকের ভালো সর্ম্পক গড়ে ওঠে।
পরবর্তিতে ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর রমজান মাসে ইফতারের পর আসামী তৈৗফিক ফজলুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই রাতে ফজলুর বাড়ি না আসায় অনেক খোজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ২০ অক্টোবর কটিয়াদী উপজেলার সতেরদ্রোন কবরস্থান থেকে বস্তাবন্দি একটি গলা কাটা অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ দেখে ও পরনের কাপড় থেকে ফজলুর রহমানকে শনাক্ত করা হয়। এসময় ফজলুর রহমানের মাথা থেকে গলা আলাদা, শরীরে ক্ষত-বিক্ষত জখম, পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর নিহতের ভাই মোঃ আনার মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে কটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১৪ মে কটিয়াদী থানার তৎকালীন উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হারুন অর রশিদ ও আবদুস সুলতান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।








