চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেভাবে ১৫৫ কেজি ওজন ঝরালেন আদনান সামি

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আদনান সামি। ‘মুজকো ভি তু লিফ্ট কারা দে’, ‘তেরা চেহেরা’ সহ একাধিক জনপ্রিয় গান দিয়ে পুরো বিশ্বের শ্রোতাদের মাতিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন মালদ্বীপ। আর সেখানে তোলা কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন যা দেখে ভক্তদের চোখ কপালে! একসময়য়ের স্থূল শরীরের আদনান সামি একদম ‘ফিট’। কী করে এত ওজন ঝরালেন তিনি?

২০০৬ সালে ২২০ কেজি ওজন ছিল আদনানের। তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন বাড়তি ওজন ঝরাতে না পারলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে তার জন্য। এরপরই ওজন ঝরানোর জন্য কঠিন পরিশ্রম শুরু করেন তিনি। কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ১৫৫ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেন।

Reneta June

ওজন কমানোর জন্য টেক্সাসে গিয়ে এক পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিয়ে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিয়ে প্রোটিনে নির্ভরশীল হওয়া শুরু করেন আদনান সামি। ভারী শরীরের কারণে শুরুতে ব্যায়াম করতে পারতেন না। শরীর এতটাই মেদবহুল ছিল যে নিচু হতে পারতেন না। ফলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে বেশি জোর দিতে হয়েছিল তাকে। সাদা ভাত, রুটি, চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কড়া নিয়মে চলতেন।

বিজ্ঞাপন

আদনান সামি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ওজন ঝরানোর বিষয়টি ৮০% মানসিক আর ২০ শতাংশ শারীরিক। তিনি ছিলেন ‘ইমোশনাল ইটার’। মন ভালো থাকলে কিংবা খারাপ থাকলে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতেন। পুষ্টিবিদ তাকে লো-ক্যালরি ফুড চার্ট দিয়েছিলেন। সেখানে সাদা ভাত, রুটি এবং অস্বাস্থ্যকর জাঙ্কফুড খাওয়া নিষেধ ছিল। তাকে শুধু সালাদ, মাছ, সেদ্ধ ডাল খেতে বলা হয়েছিল। দিনের শুরু হতো চিনি ছাড়া এক কাপ চা দিয়ে। দুপুরে খেতেন সবজির সালাদ ও মাছ। রাতে সেদ্ধ ডাল, মুরগির মাংস। সুগার-ফ্রি ড্রিংক খাওয়ার অনুমতি ছিল। নাস্তা হিসেবে বাড়িতে তৈরি পপ কর্ন খেতে পারতেন।

এভাবে কঠিন ডায়েট অনুসরণ করে ওজন ৪০ কেজি কমানোর পরে ট্রেডমিল ব্যবহার করা শুরু করেন আদনান সামি। হালকা ব্যায়ামও করা শুরু করেন। তার ট্রেলার সপ্তাহে ছয় দিন কার্ডিও এক্সারসাইজ করাতেন তাকে। প্রতি মাসে ১০ কেজি করে ওজন কমেছিল আদনান সামির। এখন তার ওজন মাত্র ৬৫ কেজি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া