ঠিকানা মিললো সৌদি ফেরত মানসিক অসংলগ্ন নারীর

প্রায় ১২ দিন ধরে ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের হেফাজতে থাকা সৌদি ফেরত মানসিক অসংলগ্ন এক নারীর ঠিকানা পাওয়া গেছে। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে।
আজ সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান ফেসবুক স্টাটাসে এ তথ্য জানান।
শরিফুল হাসান বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) বিশেষ ধন্যবাদ। আপনারা হয়তো জানেন, সৌদি আরব ফেরত এক নারীর পরিবারকে গত ১২ দিন ধরে আমরা খুঁজছি, যিনি নিজের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেন না। বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের জানালেও ওই নারীর পরিবারকে খুঁজে পেতে রাষ্ট্র বা সরকারের তেমন তৎপরতা আমাদের অন্তত চোখে পড়েনি।
সরকারের প্রতিটা মন্ত্রণালয়ে একটা জনসংযোগ দপ্তর থাকে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের খবরগুলো ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবরের কাছে যাওয়ার কথা। জানি না রিজিয়া নামের এই মেয়েটার খবর তারা দেখেছেন কী না! দেখে থাকলে কী করেছেন। না দেখলে কীভাবে তারা দেখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেন। তবে পরিস্থিতি যতো জটিলই হোক আমরা কখনো আশা ছাড়ি না। সবসময় ভাবি কোন না কোন উপায় মিলবেই।
শরিফুল হাসান বলেন, আজকে কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে জানাচ্ছি ফেসবুকে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন আপা আমাদের নয়ন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর আজকে ঢাকার পিবিআই সদস্যরা রিজিয়া আপার আঙুলের ছাপ নেন। জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে মিলিয়ে পিবিআই আমাদের জানিয়েছে রিজিয়া আপার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে। আমরা আজকেই আমাদের সিলেট টিমকে ওই গ্রামে পাঠাচ্ছি। আশা করছি ওই গ্রামের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা রিজিয়া আপার পরিবারকে খুঁজে পাবো।
শরিফুল হাসান আরও জানান, আপনার হয়তো অনেকেই জানেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ওই নারী। তবে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ছিলো অসংলগ্ন। তিনি নিজের বাড়ির ঠিকানা কিংবা পরিবারের ফোন নম্বর-কিছুই মনে করতে পারছেন না। অসংলগ্ন অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তাৎক্ষণিক নিরাপদ আবাসন ও পরিবারের সন্ধানের জন্য ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করে।
এরপর ১২ দিন ধরে ধরে ওই নারী ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে অবস্থান করছেন। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথিপত্র পাওয়া যায়নি। তার কাছে শুধু বিমানের একটা টিকিট ছিল। সেখানে প্রাথমিক পরিচয় রিজিয়া বেগম, পিতা/স্বামী: আব্দুর নুর শুধু এতোটুকু উল্লেখ ছিল। আমরা এ নিয়ে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছিলাম। আমাদের নয়ন ভাইসহ পুরো টিম যেভাবে আন্তরিকভাবে এই মানুষগুলোর পাশে থাকেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।
শরিফুল হাসান বলেন, আসলে সৌদি ফেরত নারীদের এমন অসহায়ত্বের ঘটনাগুলো আমাদের ভীষণ বেদনার্ত করে। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সৌদি ফেরত আরেকজন নারী রয়েছেন যিনি চারবার হাত বদলে ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছেন। আমি খুব করে চাই, এই রাষ্ট্র সরকার এবং সবাই মিলে আমরা এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবো যাতে করে রিজিয়া আপারা এমন সংকটে না পড়েন। আর পড়লেও আমরা সবাই মিলে পাশে থাকতে পারি।



