রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সংস্কারে ছয় বিশিষ্ট নাগরিককে দায়িত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীকে।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ অক্টোবর কাজ শুরু করবেন তিনি। দ্রত সময়ের মধ্যে তাকে কাজ শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ সভার আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শ সভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীর পাশাপাশি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনে সরফ রাজ হোসেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনে ড. শাহদীন মালিক , দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানকে।
কে এই আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী। তিনি ২০০১ সালে লতিফুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।
ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মুয়ীদ চৌধুরীকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়।
আব্দুল মুয়ীদ ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক এবং পরের বছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (বর্তমান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) যোগ দেন মুয়ীদ চৌধুরী। ২০০০ সালে সচিব হিসাবে অবসরে যান তিনি।
এর আগে নবম সংসদে ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার গঠন করলে নিয়োগ পাওয়ার ১৯ দিনের মাথায় বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয় মুয়ীদ চৌধুরীকে। তার জায়গায় তখন নিয়োগ পেয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জামালউদ্দিন আহম্মেদ।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে মুয়ীদ চৌধুরী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।







