জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী অ্যাবি চোইকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে হংকং পুলিশ।
তাকে খুনের অভিযোগে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিনেত্রীর প্রাক্তন স্বামী অ্যালেক্স কোয়াং, শ্বশুর কোং কাউ এবং দেবর অ্যান্টনি কোয়াং। আগামী ৮মে পর্যন্ত আদালতে তাদের জামিনও বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে সংপৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন কোং কাউয়ের স্ত্রী অর্থাৎ চোইয়ের শাশুড়ি জেনি লি এবং কোং কাউয়ের উপপত্নী এনজি। মূলত এই দুই জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট ও আসামীদের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
হংকং পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া এক প্রতিবেদনে আগেই জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন চোই। গত শুক্রবার চীনের মূল ভূখণ্ড প্রায় ৩০ মিনিটের দূরত্বে হংকংয়ের শহরতলির কোয়াং কাউ-এর ভাড়া করা একটি বাড়ির ফ্রিজের মধ্যে থেকে পুলিশ চোইয়ের টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছিল, তিনতলা ওই বাড়ির নিচতলাটি একপ্রকার অস্থায়ী কসাইয়ের দোকানে পরিণত হয়। ওই বাড়িতে একটি মাংসের স্লাইসার, একটি বৈদ্যুতিক করাত এবং কিছু পোশাকও পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর গেল রবিবার চোই-এর মাথা পাওয়া গিয়েছিল বাড়ির রান্নার পাত্রে। মাথার অংশে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় তাকে জোরে আঘাত করা হয়েছে। আর এরপরেই ফ্রিজে মেলে চোই-এর টুকরো দেহ।
তদন্তকারী অফিসাররা ওই বাড়ি থেকে একটি মাথার খুলি, বেশ কয়েকটি পাঁজর এবং মাথার চুল উদ্ধার করেন। তবে চোই-এর হাত, এবং শরীরের আরও বেশকিছু অংশ খুঁজে পেতে বেগ হয়েছে পুলিশকে।
জানা গেছে, চোই এর প্রাক্তন স্বামী এবং তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চলছিল বেশকিছুদিন ধরেই। কিছু টাকা পয়সা নিয়েও সমস্যা চলছিল তাদের ভেতর।
চোইয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে চলতি বছরের সব থেকে মর্মান্তিক খুনের ঘটনা বলে মনে করছে হংকং পুলিশ। তাইতো অপরাধীরা যেন কোনভাবেই জামিন না পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।







