নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৃথক দুই ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহরণচেষ্টার শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো উপজেলার ৫৫ নম্বর আষ্টানী জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ও আনিকা।
ভুক্তভোগী আবির জানায়, গত রোববার স্কুলের টিফিনের সময় বাড়ি থেকে স্কুলে আসার পথে মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাকে লটকন বাগান দেখানোর কথা বলে। একপর্যায়ে তারা জোর করে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। তবে আবির সাহসিকতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে মোটরসাইকেল থেকে নেমে পালিয়ে আসে।
অপর শিক্ষার্থী আনিকা জানায়, সোমবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে একই ধরনের একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সে চিৎকার করলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
এ দুটি ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন কুমার চৌধুরী বলেন, “দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অপহরণের চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করি। পরে সোমবার শিবপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।”
শিবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থানায় জিডি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ঘটনা জানার পর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল চলাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে গ্রাম পুলিশকে টহল দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হলে অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্ক দূর হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।







