পর্যটন শহর কক্সবাজারে চলছে বইপ্রেমীদের মিলনমেলা। প্রিয়জনের সঙ্গে দীর্ঘতম সৈকতে বেড়ানোর ফাঁকে বেশিরভাগ দর্শনার্থী আসছেন সমুদ্র বই উৎসবে। প্রতিদিন বিকেলে লাবণী পয়েন্টে ভীড় করেন বইপ্রেমী মানুষগুলো।
সরেজমিনে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, গদ্য, পদ্য ও সাহিত্য-উপন্যাস পাঠকের ভীড়ে জমে উঠেছে সমুদ্র বই উৎসব। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ, শিশু-কিশোর ও বয়োজেষ্ঠ্য বইপ্রেমীরা পছন্দের লেখক ও নানান বই সংগ্রহ করছেন।
ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা পর্যটক ইফতিসাম বলেন, ‘ঢাকায় বৃহৎ বইমেলা হচ্ছে। সেখান থেকে অনেক বই কিনেছি। কক্সবাজার বেড়াতে এসে দেখি সমুদ্রপাড়ে মেলা বসেছে। তাই ভাবলাম একটু মেলা থেকে ঘুরে যাই। মেলা ঘুরে দেখলাম অনেক ভালো ভালো বই রেখেছে প্রতিটি প্রকাশনি। দুইটা ভ্রমণ কাহিনিবিষয়ক বই কিনেছি।’
ইস্টিশন আয়োজিত এবারের ‘সমুদ্র বই উৎসবে’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, হারুন রশীদের ‘উপনিবেশ চট্টগ্রাম’, অপূর্ব চৌধুরীর ‘অনুকথা’ আহসান হাবীবের ‘ভৌথিকথিক’, অমল সাহার ‘বিজ্ঞানের যতো কথা’, শিশু-কিশোরদের ক্লাসিক, রম্য কাহিনি, গোয়েন্দা সিরিজ, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বইগুলোর পাঠক তুলনামূলক বেশি।
এছাড়া মেলায় কবি ও সাংবাদিক নুপা আলমের কবিতার বই (তৃতীয় গ্রন্থ) ‘কথন-স্রোত’ বইটি পেতে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনের স্টলে ভীড় করছেন পাঠকরা।
কুমিল্লার জুলফিকার হাসনাত বলেন, ‘নতুন বউ নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসে আগে বইমেলায় ঢুকেছি। প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছি। মনের মতো কোনো বই পেলে স্ত্রীকে উপহার দেবো।’
কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাকিল হাসান বলেন, ‘এই মেলা শুরু হওয়ার ৫দিন পর বন্ধুদের নিয়ে বই কিনতে এসেছি। ৭টা বই কিনেছি। তবে ছাড় পেয়েছি মাত্র ২০ শতাংশ। আরেকটু ছাড় পেলে আরো বেশি বই কিনতে পারতাম।’
বই উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রকাশনী সামারা সায়েন্টিস্টের মালিক ইফাত আরা মিষ্টি বলেন, ‘আমার প্রকাশনীতে বিজ্ঞান সম্পর্কিত বইগুলো বিক্রি করছি। বিশেষ করে ছোটদের বই বেশি বিক্রি করা হচ্ছে। ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছি। শুরুর দিন থেকে মোটামুটি ছাড়া পাচ্ছি।
প্রগতি পাবলিকেশন্সের রশিদুজ্জামান বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হওয়ার ৩দিন পর্যন্ত বেচাকেনা ছিল। কিন্তু এর পরে তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে কী হয় দেখি।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে সপ্তাহব্যাপী সমুদ্র বই উৎসব শুরু হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। ২০২২ সাল থেকে এ বইমেলার আয়োজন করছে ইস্টিশন।
সমুদ্র বই উৎসবের আয়োজক ইস্টিশনের স্বত্বাধিকারী অনুরণন সিফাত বলেন, ‘এবারের মেলায় ১১টি প্রকাশনা অংশগ্রহণ করেছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমুদ্রসৈকতে লোকজন বেড়াতে আসে তাই সৈকতপাড়কে বেছে নিয়েছি। পর্যটকরা প্রতিদিন বই উৎসবে আসছেন। পছন্দের লেখকের বই কিনছেন। আমরাও কেনার সুবিধার্থে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে বই উৎসব নামে ৪টি প্রকাশনা নিয়ে ইস্টিশন বই মেলার আয়োজন করে। এরপর ২০২৩ সালে ১০টি ও ২০২৪ সালে ১১টি প্রকাশনা নিয়ে ‘সমুদ্র বই উৎসব’ এর আয়োজন করা হয়। পাঠকের যথেষ্ট ছাড়া পাচ্ছি। সব স্তরের পাঠকের সহযোগিতা নিয়ে এই উৎসব আরও বড় করতে চাই।’








