চরাঞ্চলের মানুষদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি টেকসই বাজারব্যবস্থা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উন্নত চাষাবাদ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সহজ অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনের মানোন্নয়ন করা হলে দেশ এগিয়ে যাবে।
বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ও সুইসকন্ট্যাক্ট পরিচালিত মেকিং মার্কেটস ওয়ার্ক ফর দি চরস (এমফোরসি) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।
আজ রোববার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি বাংলাদেশে অবস্থিত সুইস দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১২-২৪ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত চরাঞ্চলে খাদ্য সুরক্ষা, দারিদ্র্য ও ঝুঁকি হ্রাসকরণ, জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরো বেশি করে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে চরাঞ্চলের উন্নয়নে সকল ধরনের সহযোগিতা করবার ঐকান্তিক ইচ্ছা আমাদের আছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংলি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতাকে মাথায় রেখে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং চরাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বলা হয়, চরের মূল জনপদের সাথে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার ফলে বাজার ও অন্যান্য পরিসেবার মান আশানুরূপ নয়, যার ফলে চরে কম অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংঘঠিত হয় এবং সার্বিক আউটপুট কম হয়। তবে চরের দারিদ্রদ্র্য দূরীকরণ ও চরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। চরাঞ্চলের উন্নয়নকে ঘিরে যদি মেগা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়, সেই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা যায়, তবে চরাঞ্চলে কৃষি বাবসা বাণিজ্যে পয়ক্রির সম্পসারণ ঘাঁটবে যার সফল বাংলাদেশ ভোগ করবে।
অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দূতাবাস ও এমফোরসি প্রকল্পের পার্টনার সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের কা রিপ্রেজেন্টেটিভ মজিবুল হাসান সেজান, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এমফোরসি প্রকল্পের টিম লিডার আব্দুল আউয়াল।
উল্লেখ্য, এমফোরসি প্রকল্পটি চরাঞ্চলের দারিদ্র্য ও ঝুঁকি হ্রাসকরণ, জীবন ও জীবিকার মানোন্নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি নিশ্চিতকরণে বিগত ১২ বছর ধরে কাজ করেছে।







