বাংলাদেশ

ঈদে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার পশু

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র চ্যানেল আই অনলাইন, কোরবানির পশুর হাটের সংবাদ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৮ বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানিকৃত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কোরবানির সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে মোট ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি গরু ও মহিষ, ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫৫৪টি অন্যান্য পশু রয়েছে। গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু। এর মধ্যে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি গরু ও মহিষ, ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৪২টি অন্যান্য পশু রয়েছে। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এ বিভাগ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ কোরবানি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে মোট ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি গরু ও মহিষ, ৫ লাখ ১৪ হাজার ১৯২টি ছাগল ও ভেড়া এবং ১৬১টি অন্যান্য পশু রয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, রংপুরে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, বরিশালে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেটে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর কোরবানির জন্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। বিপরীতে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। ফলে কোরবানি শেষে দেশে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। সে হিসাবে এবার কোরবানি হয়েছে আরও ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি বেশি পশু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, খামারিদের পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে প্রাণিসম্পদ খাত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও খামারিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

কোরবানি ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের খামারি, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিষয়:পবিত্র ঈদুল আজহা পশু কোরবানি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…