সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তারমধ্যে অন্যতম প্রোগ্রাম ‘রিমেম্বারিং মুনসুন রেভুলুশন’। যেখান থেকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন নিয়ে ৮টি মাঝারি দৈর্ঘ্যের সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
এই আটটি চলচ্চিত্র কারা নির্মাণের দায়িত্ব পাবেন- এ নিয়ে গেল নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে লেখক এবং শিক্ষক সুমন রহমান, পরিচালক-প্রযোজক তানিম নুর, এবং আদনান আল রাজীবকে এক্সটারনাল এক্সপার্ট হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে আট সদস্যের একটি সার্চ কমিটি করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সে সার্চ কমিটি খুঁজে বের করেছে জুলাই আন্দোলন নিয়ে উপযুক্ত আট নির্মাতাকে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি উপদেষ্টা জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আটটি মাঝারি দৈর্ঘ্যের সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে অনম বিশ্বাস, হুমায়রা বিলকিস, নুহাশ হুমায়ূন, শঙ্খ দাশগুপ্ত, শাহীন দিল রিয়াজ, রবিউল আলম রবি, তাসমিয়াহ আফরিন মৌ এবং মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামকে।
আট নির্মাতার নাম ঘোষণা করে ফারকী এদিন বলেন, “এই আটজন চলচ্চিত্রকার নির্বাচনের জন্য আমাদের সার্চ কমিটি গত দুই মাসে তিনটি অফলাইন এবং একাধিক অনলাইন সভায় মিলিত হয়। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে প্রশিক্ষক-চলচ্চিত্রকারদের নাম প্রস্তাব করেন। সেসব প্রস্তাবনা থেকে এবং ১৬ জনের একটা লং লিস্ট বা লম্বা তালিকা বানানো হয়। তাদের সাথে কমিটি প্রাথমিক আলাপ সম্পন্ন করেন। সেই যোগাযোগ সাপেক্ষে আমাদের লম্বা তালিকায় থাকা চলচ্চিত্রকারদের প্রত্যাশা, আগ্রহ, জেন্ডার, কাজের ধরন এবং সার্বিক পোর্টফোলিও ইত্যাদি বিবেচনায় আটজনের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। আজকে সার্চ কমিটি আপনাদের সামনে আমাদের নির্বাচিত সেই আটজন চলচ্চিত্রকারের নাম প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যারা এ বছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই চ্যালেঞ্জিং কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এবং সৃজনশীল উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে সম্মত হয়েছেন।”
ফারুকী বলেন, আমরা স্পষ্ট করে এই আট নির্মাতাকে বলছি, সরকার তাদের কোনো প্রেস্ক্রিপশন দিচ্ছে না। আমরা চাইও না তারা কোনো প্রপাগান্ডা ছবি বানাক। আমরা চাই তারা এমন ছবি বানাক, যেটা এনগেজিং এবং পিস অব আর্ট হবে! এবং ছবিটি নিয়ে ওই ফিল্মমেকার নিজেরাই প্রাউড ফিল করবে!
সিনেমা নির্মাণের আগে এই আট নির্মাতার কাজ হবে ৮ বিভাগ জুড়ে প্রোডাকশন ওরিয়েন্টেড ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ করা। যে ওয়ার্কশপগুলোর লক্ষ্য দুইটা। ১. প্রতি বিভাগে দশ জন করে প্রতিশ্রুতিশীল ফিল্মমেকারকে হাতে কলমে কাজ শেখানো। এই ওয়ার্কশপ পরিচালনা করবেন আটজন ফিল্মমেকার। ২. এই আট ফিল্মমেকার একই সাথে একটা করে ৪০ মিনিট দৈর্ঘের ছবি বানাবেন যে ছবিগুলো জুলাই মাসে ‘রিমেম্বারিং মুনসুন রেভুলেশন’ ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষ্যে দেখানো হবে। পরবর্তীতে টেলিভিশন এবং অনলাইনেও দেখানো হবে এগুলো। এই ছবিগুলোতে সহকারী পরিচালক হিসাবে হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সার্চ কমিটির সদস্য লেখক এবং শিক্ষক সুমন রহমান বলেন, ৮টি বিভাগ থেকে যারা চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য একটি আবেদন ফর্ম তৈরী করা হয়েছে। সেখান থেকে উপযুক্ত অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা হবে।







