গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসকরা। নিহতদের মধ্যে দুজন ইসরায়েলের অবরোধজনিত দুর্ভিক্ষে মারা গেছেন।
আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এ সময় খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে ১৯ জন নিহত হন। উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিং এলাকায় এ হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
সায়্যিদ নামের এক জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্ত বলেন, চারপাশে গুলি চলছিল। আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী হচ্ছে। আমাদের সামনেই মানুষ মারা যাচ্ছিল, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারিনি।
অন্য প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আবু নাহাল জানান, তিনি সন্তানদের জন্য খাবার সংগ্রহে এসেছিলেন। খাবার ও পানি থাকলে আসতাম না, তিনি বলেন এবং বিশ্বকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।
গাজায় সাহায্য নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৮ জনে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২৭, যার মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, অপুষ্টিতে ছয় বছরের জামাল ফাদি আল-নাজ্জার ও ৩০ বছরের উইসাম আবু মোহসেন মারা গেছেন।
গাজায় মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ ২৬টি দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গাজার মানবিক দুর্ভোগ অকল্পনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের চোখের সামনে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। এখনই ক্ষুধা বন্ধ ও পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে “প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ”-এর নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল সরকারকে আন্তর্জাতিক এনজিওদের সাহায্যের চালান অনুমোদন এবং মানবিক কার্যক্রমে সব বাধা অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে।







