আন্তর্জাতিক

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, বাড়িতে মিলল আরও ৩ মরদেহ

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, বাড়িতে মিলল আরও ৩ মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে আটক হন হামলাকারী। এ ঘটনায় তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। হামলাকারীর বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।

রোববার (৮ নভেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পোল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্রাকোর ঐতিহাসিক প্রধান চত্বরে রক্তাক্ত এ হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশে অতীতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলেও নিজেদের তুলনামূলক নিরাপদ মনে করত পোল্যান্ডের মানুষ।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিকভাবে সবকিছু ইঙ্গিত করছে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলের পাশাপাশি হামলাকারীর পরিবারের বাড়িতেও পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আহত পাঁচ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

হামলাকারীর বাড়িতে আরও তিন মরদেহ

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, ক্রাকো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে অস্ট্রোভিয়েক শভিয়েন্তোকশিস্কি শহরে হামলাকারীর বাড়ি থেকে দুজন নারী ও একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক জরুরি বৈঠকে টাস্ক বলেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ড্রোন ব্যবহার করে বাড়িটির ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে হামলাকারীর বসবাস করা ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে প্রবেশ করেন সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্যরা।

বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রী তোমাশ শিমোনিয়াক জানান, তদন্তে পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এবিডব্লিউ) এবং সামরিক কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসকেডব্লিউ) সহায়তা করছে।

সামরিক পোশাকে হামলা, ব্যবহার করেন এআর-১৫ রাইফেল

স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র কাতারজিনা সিসলো জানান, হামলাকারীর পরনে সামরিক বাহিনীর পোশাকের মতো পোশাক ছিল। হামলায় তিনি সামরিক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেন। তার গাড়ি থেকেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রেজ ফিওলেক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টিভিএন২৪-কে জানান, হামলায় এআর-১৫ রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাকারীর আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধ লাইসেন্সও ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক হামলাকারীর বয়স ২৪ বছর। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে একটি গাড়ি থেকে গুলি চালানোর খবর পেতে শুরু করে তারা। ক্রাকোর প্রধান চত্বরে গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান ওই ব্যক্তি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ ও পুলিশের সাইরেনের মধ্যে লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে রক্তমাখা পাথরের ওপর দুজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন পথচারী তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ৮ ও ৯ নভেম্বর জাতীয় শোক ঘোষণা করবেন প্রেসিডেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট নাভরোকি বলেন, নিহত, আহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার সমবেদনা রয়েছে।

এ ঘটনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন।

বিষয়:ইউরোপ ক্রাকোর ঐতিহাসিক প্রধান চত্বর ডোনাল্ড টাস্ক পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলা পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…