তীব্র ধুলিঝড় এবং দমকা হাওয়ার কারণে দিল্লি বিমানবন্দরের কমপক্ষে ৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ২৫টি ফ্লাইট অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
আজ ১২ এপ্রিল শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লি এবং আশেপাশের এলাকায় এক শক্তিশালী ধুলিঝড় আছড়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায়।
একজন যাত্রী জানান, আমাদের শ্রীনগর থেকে দিল্লি হয়ে মুম্বাই যাওয়ার কানেক্টিং ফ্লাইট ছিল। আমাদের ফ্লাইট দিল্লিতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নামার কথা থাকলেও ঝড়ের কারণে সেটি চণ্ডীগড় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টায় দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। এরপর আমাদের মধ্যরাতে অন্য একটি ফ্লাইটে উঠতে বলা হয়। আমরা প্রায় ৪ ঘণ্টা বিমানে বসে ছিলাম, তারপর আবার নামিয়ে সিকিউরিটি চেকের মধ্য দিয়ে যেতে বলা হয়। এখন সকাল ৮টা, আমরা এখনও বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছি। ফ্লাইট এখনও ছাড়েনি।
একই ফ্লাইটে থাকা ৭৫ বছর বয়সি এক হুইলচেয়ার-নির্ভর নারী বলেন, আমরা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে আছি। দিল্লিতে ঝড়ের কারণে নামতে পারিনি, কিন্তু রাত ১১টা থেকে আমরা দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছি।
অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বলা হলেও, বাস্তবে এটি একটি বাসস্ট্যান্ডের থেকেও খারাপ। অন্য এক যাত্রী লেখেন, আমাদের ফ্লাইট ৬ বার রিস্কেডিউল করেছে। ৬ ঘণ্টা ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। আরেকজন বলেন, দিল্লি থেকে এক ফ্লাইট এখনও ছাড়েনি, যাত্রীদের বোর্ড করিয়ে দু’ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হলে খাবার দেওয়ার কথা, কিন্তু সেটিও মেলেনি।
এয়ার ইন্ডিয়া তাদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দিল্লিগামী ও দিল্লি থেকে ছাড়ার অনেক ফ্লাইট ঝড়ের কারণে বিলম্বিত বা অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে। ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটও জানিয়েছে, আবহাওয়ার কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর দিল্লিতে আজকের জন্য বিদ্যুৎ ও ঝড়ের জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে। শহরের বিভিন্ন অংশে ঝড়ের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে রাস্তা ও গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। নরেলা, বাওয়ানা, বাদলি ও মঙ্গোলপুরী-সহ দিল্লি-এনসিআরের অনেক অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।







