ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপে যাত্রী আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, আর উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জাকার্তা সংলগ্ন বেকাসি শহরের একটি রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি কমিউটার ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন কমিউটার লাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র কারিনা আমান্ডা।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অন্তত চারজন জীবিত অবস্থায় আটকা রয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসরনাস-এর প্রধান মোহাম্মদ স্যাফিই জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
তিনি বলেন, ট্রেনের বগিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং সংকীর্ণ জায়গায় কাজ করতে হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ কেটে আটকে পড়াদের বের করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের ট্রেনের ধাতব কাঠামো কাটতে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যাতে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত রেল অপারেটর কেএআই-এর মুখপাত্র অ্যান পুরবা জানান, ১৪ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৭৯ জনকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরেক মুখপাত্র ফ্রানোটো উইবোও জানান, একটি ট্যাক্সি লেভেল ক্রসিংয়ে কমিউটার ট্রেনটিকে আঘাত করলে সেটি লাইনের ওপর থেমে যায়। পরে ওই অবস্থায় দূরপাল্লার ট্রেনটি এসে ধাক্কা দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দুর্ঘটনায় জাকার্তা-চিকারাং কমিউটার ট্রেন এবং আর্গো ব্রোমো আংগ্রেক নামের দূরপাল্লার ট্রেনটি জড়িত ছিল, যা জাকার্তা ও সুরাবায়ার মধ্যে দ্রুতগতির সেবার জন্য পরিচিত।
ইন্দোনেশিয়ার রেল নেটওয়ার্কে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১০ সালে জাকার্তা থেকে আসা একটি ট্রেন সেন্ট্রাল জাভায় স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে ওয়েস্ট জাভায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অনিরাপদ লেভেল ক্রসিংয়ে একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে ১৮ জনের মৃত্যু হয়।








