চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমরা এখানে তোমাকে ভীষণভাবে মিস করছি আব্বা’

জন্মদিনে ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ নির্মাতা শেখ নিয়ামত আলীকে শ্রদ্ধা

সূর্যদীঘল বাড়ি, দহন, অন্য জীবন– এসমস্ত চলচ্চিত্রের নামের সাথে একটি নাম ভেসে ওঠে সবার মনে। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা শেখ নিয়ামত আলী। সোমবার(৩০ এপ্রিল) তাঁর ৭৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪০ সালের এই দিনে তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর মেয়ে শর্বরী ফাহমিদা বাবাকে স্মরণ এদিন বলেন: তুমি যদি আজ আমাদের সাথে ৭৯তম জন্মদিন পালন করতে পারতে বাবা, নাতি-নাতনিদের সাথে কেক কেটে প্রতিটি মুহূর্ত হয়তো উপভোগ করতে। তোমার মহৎ সৃষ্টিগুলো সবসময় তোমার কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পৃথিবীকে হয়তো আরও কিছু চলচ্চিত্র তুমি উপহার দিতে পারতে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অন্য ইচ্ছাই ছিল তোমাকে নিয়ে। আমি নিশ্চিত, পৃথিবীর চেয়েও সুন্দর কোন জায়গায় তুমি ভালো আছো। কিন্তু আমরা এইখানে তোমাকে ভীষণভাবে মিস করছি আব্বা।

শেখ নিয়ামত আলী। একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ছিলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনেও রয়েছে তাঁর অবদান। সত্তর দশকে তিনি এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিহউদ্দীন শাকের যৌথভাবে নির্মাণ করেন “সূর্যদীঘল বাড়ি” । এছাড়াও দহন, অন্যজীবন, রানী খালের সাঁকো, আমি নারী-র মতোন চলচ্চিত্র। সৃষ্টির সংখ্যা কম হলেও বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি তাঁর সৃষ্টকর্মের জন্য।

‘দহন’ সিনেমার একটি দৃশ্যে হুমায়ুন ফরীদি

১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “সূর্য দীঘল বাড়ি”। ঔপন্যাসিক আবু ইসহাক এর ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত কালজয়ী উপন্যাস “সূর্য দীঘল বাড়ী” অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৫০ সালের দুর্ভিক্ষ যা ‘পঞ্চাশের আকাল’ হিসেবে পরিচিত সেই সময়কালকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এ চলচ্চিত্রের কাহিনি। সে সময় যারা কোনমতে বাঁচতে পেরেছিল তাদেরই একজন জয়গুন। যে সন্তানসহ ফিরে আসে গ্রামে, শুরু করে নতুন জীবন। অথচ সমাজ আর বাস্তবতার কারণে সেই জীবনও মুখোমুখি হয় দ্বন্দ্ব আর সংঘাতের।

১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় চলচ্চিত্র ‘দহন’। এটি একটি রাষ্ট্রীয় অনুদানে নির্মিত এ চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য পরিচালনা করেছেন শেখ নিয়ামত আলী। পরিচালকের নিজ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শেখ নিয়ামত আলী প্রডাকশন্স এর ব্যানারে নির্মিণ করা হয় ছবিটি। ছবির প্রধান প্রধান চরিত্র গুলোতে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা ,হুমায়ুন ফরীদি, শর্মিলী আহমেদ, প্রবীর মিত্র, ডলি আনোয়ার, রওশন জামিল, আবুল খায়ের, সাইফুদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। ছবিটির জন্য সেরা নির্মাতা ও কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন নিয়ামত আলী। শুধু তাই নয়, ১৯৮৬ সালে কার্লভেরী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শেখ নিয়ামত আলীর ‘দহন’ পুরস্কার পায়।

‘অন্য জীবন’ ছবির শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্যে শেখ নিয়ামত আলী

একজন রাজনৈতিক নেতা যিনি শহরে থাকেন এবং নির্বাচনের সময় গ্রামে আসেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তিনি গ্রামের তাঁতি সম্প্রদায়কে মিথ্যা আশ্বাস দেন। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর গ্রামে তাঁতের মেশিন বসান। এই ভোটের রাজনীতি ও তার প্রভাব গ্রামের তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবনে নিয়ে আসে চরম দুর্ভোগ। এই কাহিনিকে নিয়েই নির্মিত চলচ্চিত্র ‘অন্য জীবন’। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় চলচ্চিত্রটি। ছবিতে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, চম্পা, আবুল খায়ের, শান্তা ইসলাম, চিত্রলেখা গুহ প্রমুখ। সে বছর চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ১১ টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।