নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত, সংযমী ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার ভারতের সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে সংগীত বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় কারফিউ চলাকালে বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা এখন সবার প্রধান দায়িত্ব। তিনি নাগরিক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফ্লে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং ন্যূনতম বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।







