বাংলাদেশের ব্যবসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২৮ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী কর্মকর্তাকে ‘বাংলাদেশ সি-সুটস এওয়ার্ডসে’ ভূষিত করা হয়েছে।
শনিবার ১১ নভেম্বর রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বাংলাদেশ সি-সুটস এওয়ার্ডসের দ্বিতীয় অধিবেশনে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রযোজনায়, সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সঞ্চালনায়, বিএসআরএম ও দ্য ডেইলি স্টারের সহযোগিতায় এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই), স্মার্ট বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক এবং ন্যামকন কনসালটান্সি লিমিটেড আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩৫০ জন ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
এই বছর বাংলাদেশ সি-সুটস এওয়ার্ডসের জন্য ২২টি ক্যাটাগরিতে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতাধিক মনোনয়ন জমা পড়ে। সি সুটস ব্যবস্থাপনার পদগুলোর সুষ্ঠ সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই ক্যাটাগরিগুলো গঠন করা হয়। দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি জুরি সেশনের যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে ক্যাটাগরিভিত্তিক বিজয়ীদের বাছাই করে নেওয়া হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের পক্ষ থেকে আরও ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের দ্বি-মাসিক ম্যাগাজিন ‘সিইও রিভিউ’র দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রকাশ করা হয় এই আয়োজনে।
স্বাগত বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, এই সম্মাননাটি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের শীর্ষ নেতৃত্বের বিকাশের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। দুটি লক্ষ্য নিয়ে আমরা এই উদ্যোগটি শুরু করেছি। প্রথমত, দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অসাধারণ অর্জনকে উদযাপন করা এবং দ্বিতীয়ত তাদের সাফল্যের গল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
২য় বাংলাদেশ সি-সুটস এওয়ার্ডসের আগে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজন করে ৭ম লিডারশিপ সামিটের। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রযোজনায়, সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং শেলটেকের সঞ্চালনায়, বিএসআরএম, টিম গ্রুপ এবং দ্য ডেইলি স্টারের সহযোগিতায় এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই), স্মার্ট বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক এবং ন্যামকন কনসালটান্সি লিমিটেডের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই বছরের অধিবেশনটির প্রতিপাদ্য ছিলো, ‘নেভিগেটিং দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: ট্রান্সফরমিং অর্গানাইজেশনস ফর দ্য ফিউচার’ বা ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তৈরী করে তোলা।
সারা দিনের অধিবেশনে দেশ এবং বিদেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, গবেষকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন। ৩টি কিনোট সেশন, ৫টি প্যানেল ডিসকাশন এবং ১টি ইনসাইট সেশনে সাজানো এবারের লিডারশিপ সামিটে আলোচিত হয় বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের জটিলতা, প্রতিকূলতা এবং সমাধানসহ, টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির নানাবিধ দিক।
শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে থাকেন আমাদের লিডার বা শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাই আসন্ন ভবিষ্যতকে সামনে রেখে কীভাবে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে সাজাতে পারি সেই বিষয়ে ভাবতে হবে। আজকের প্রতিটি আলোচনা আমাদের এই সম্পর্কিত একটি নীতিমালা গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)- এর ম্যানেজমেন্ট কমিটির দুজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ সি-সুটস এওয়ার্ডস ২০২৩ দেওয়া হয়। ‘চীফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার/সিএ ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইউবিএল- এর করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশীপ্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর শামীমা আক্তার এবং ‘চীফ সাপ্লাই চেইন অফিসার/ সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইউবিএল- এর সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর মোঃ রুহুল কুদ্দুস খান।
সামিটের প্রথম কিনোট সেশনের বক্তা ছিলেন ডঃ তুলসী জয়কুমার, প্রফেসর, ইকোনোমিক্স এন্ড এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, সেন্টার ফর ফ্যামিলি বিজনেস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ, এসপি জৈন ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ। পরবর্তীতে অন্য দুইটি কিনোট সেশনে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনী বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী সংস্কৃতি গঠনের উপায় এবং টেকসই চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন যথাক্রমে সুহাইল আল খারসাহ, এন্টারপ্রাইজ এজিল কোচ, সেন্ট্রাল ট্রান্সফরমেশন অফিস, ফার্মা ইন্টারন্যাশনাল এবং ইয়াসির আজমান, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, গ্রামীণফোন লিমিটেড। এছাড়াও, সামিটের একমাত্র ইনসাইট সেশনটি পরিচালনা করেন ইউনাইটেড আইগাজ এলপিজি লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এরকুমেন্ট পোলাট।
এছাড়াও ৫টি প্যানেল ডিসকাশনে বক্তারা নেশন বিল্ডিংয়ে স্মার্ট নেতৃত্বের ভূমিকা, সৃজনশীল নেতৃত্বসহ একাধিক প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন।







