সুসান লেসির পরিচালনায় এইচবিও এর ডকুমেন্টারি ‘স্পিলবার্গ’ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের জীবনী নিয়ে নির্মিত আড়াই ঘন্টার এ তথ্যচিত্রের দ্বিতীয়ার্ধ কিছুটা ঝুলে গেলেও, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও স্পিলবার্গের ভক্তদের জন্য এর প্রথমার্ধ রীতিমত এক উপহারস্বরূপ। স্পিলবার্গের পুরো ব্যক্তিজীবনের এক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এই তথ্যচিত্রে।
স্পিলবার্গের বহুমুখী প্রতিভাকে সবচেয়ে দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সাথেই বেড়ে ওঠা আরেক প্রভাবশালী পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা। তিনি তথ্যচিত্রে জানান, স্পিলবার্গ হলেন একমাত্র পরিচালক যিনি বাণিজ্যিক এবং ভিন্ন ধারার অর্থাৎ দুই ধরনের চলচ্চিত্রেই সমানভাবে পারদর্শী। স্পিলবার্গের মেধাকে তিনি অনন্য সংগীতশিল্পী জর্জ গার্শউইনের সাথে তুলনা করেন।
‘আমেরিকান মাস্টার’ খ্যাত পরিচালক সুসান লেসির এই তথ্যচিত্রের শুরু ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’ দিয়ে, যে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে স্পিলবার্গ চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপরই আসে স্পিলবার্গকে হলিউডে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেয়া ‘জওস’ চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা, যা হলিউডের ব্লকব্লাস্টারের সংজ্ঞাই বদলে দেয়।
স্পিলবার্গের সহকর্মী, পরিবার এবং চলচ্চিত্র সমালোচকদের সাথে এই তথ্যচিত্রে আছে স্পিলবার্গের নিজের কথাও। তিনি নিজেই জানিয়েছেন তাঁর ছোটবেলার কথা। শৈশবে যে কোন কিছুতে ভয় পেতেন স্পিলবার্গ। তবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ আর কমেডিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘১৯৪১’ এর ব্যর্থতা তাঁকে মানসিকভাবে একদম ভেঙে দিয়েছিল।
স্টিভেন স্পিলবার্গ সম্পর্কে যারা জানেন না, তারা এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে জানতে পারবেন, খুব কম বয়সেই কীভাবে স্পিলবার্গ ঘুরে বেড়িয়েছেন ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। তারপর সিড শেইনবার্গের পৃষ্ঠপোষকতায় টেলিভিশন সিরিজ পরিচালনা শুরু করেন তাঁর বয়স যখন বিশের ঘরে। এরপর শুরু হয় বিভিন্ন ফিচার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন থ্রিলার নির্মাণের কাজ।
কর্মজীবনের শুরুর দিকটায় জর্জ লুকাস, ফ্রান্সিস কপোলা, মার্টিন স্করসেসের সাথে স্পিলবার্গের ঘনিষ্ঠতা উঠে এসেছে এই তথ্যচিত্রে। সুসান স্পিলবার্গের বিভিন্ন নির্মাণের ক্যামেরার পেছনের চিত্রও যোগ করেছেন দর্শকদের জন্য।
স্পিলবার্গের ভাষায় তাঁর ‘পরিণত’ চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু ‘দ্য কালার পার্পেল’ এর মাধ্যমে। এরপর আসে তাঁর ‘লিংকন’, ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’, ‘মিউনিখ’ প্রভৃতি বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলো।
স্পিলবার্গের ক্যামেরার মাধ্যমে যোগাযোগের অসাধারণ দক্ষতার কথা তুলে ধরে এই তথ্যচিত্রে টম হ্যাঙ্কস বলেন স্পিলবার্গের জীবনই সিনেমার ভাষা দিয়ে গড়া। কারও মতে স্পিলবার্গ যেভাবে সিনেমাকে ফুটিয়ে তোলেন তাতে মনে হয় চলচ্চিত্রের ভাষাই তাঁর নিজের ভাষা।
স্পিলবার্গের ভক্তদের জন্য সুসান লেসির এই আড়াই ঘন্টার তথ্যচিত্রে চোখের সামনে ভেসে উঠে স্পিলবার্গের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ও ব্যক্তিজীবনের প্রতিচ্ছবি। (সিএনএন)







