নাইন ইলাভেন নামে পরিচিত, ইতিহাসের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৩ বছর আজ। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ইসলামিক জঙ্গী গোষ্ঠি আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা, চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আছড়ে ফেলে। আরেকটি উড়োজাহাজ আঘাত করে পেন্টাগনে। হামলা হয় পেনসিলভেনিয়ায়। এসব হামলায় প্রাণ হারান প্রায় ৩ হাজার মানুষ। গুরুতর আহত হন প্রায় ২৫ হাজার।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নিউইয়র্কের আকাশচুম্বি ভবন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে জঙ্গীদের ছিনতাই করা যাত্রীবাহী একটি বিমান। এর কিছু সময় পর ৯টা ৩ মিনিটে লাইভ টেলিকাস্টে বিশ্ববাসী দেখতে পায় দ্বিতীয় বিমানটির সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়ার দৃশ্য। হামলায় ২টি ভবনেই আগুন ধরে যায়। মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যে ২টি ভবনই ধুলার ঝড় তুলে ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে তৃতীয় বিমানটি আঘাত করে পেন্টাগনের পশ্চিম অংশে। ওহায়াইট হাউজে আঘাত করতে যাওয়া আরেকটি বিমান সকাল ১০টা ৩মিনিটে আছড়ে পড়ে পেনসিভেনিয়ায়। ঘটনায় ভয়াবহতায় শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, চমকে যায় গোটা বিশ্ব। বিশাল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিমানগুলোকে ব্যবহার করেছিলো কায়দায় আল-কায়েদার জঙ্গিরা।
ভয়াবহ এ হামলায় আল কায়েদার ১৯ জন জঙ্গীর নাম কালোতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই বছর অক্টোবরে আই এস এর ওপর হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। এর কয়েক মাসের মধ্যেই আল কায়েদার অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা ও গ্রেপ্তার করে ন্যাটো। হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয় আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। ২০১১ সালের ২রা মে ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল সদস্যরা।
নাইন ইলেভেনের পর পরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র্। যে অভিযান হামলার ২৩ বছর পরেও অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-মূলমন্ত্র নিয়ে কাজ করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। শুধু আকাশ পথে হামলা নয়, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের কথা উল্লেখ করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। যে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।








