বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি ঘিরে গোলাগুলি ও মর্টার শেল ছোঁড়া অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীসহ ২২৯ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও মর্টার শেষ এসে পড়ছে। নতুন করে রাখাইন রাজ্যের বেশ কয়েকটি শহর ও সীমান্তচৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা রেখে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে বিজিবি। মিয়ানমারে সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দারাও বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
২০২১ সালে অং সং সু চিকে সরিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতায় বসে সামরিক জান্তা সরকার। এরপরই মিয়ানমারে শুরু হয় জান্তাবিরোধী আন্দোলন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জোট “থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স” ‘অপারেশন ওয়ান জিরো টু সেভেন’ শুরু করে।
এরই অংশ হিসেবে জানুয়ারিতে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাচৌকিতে হামলা চালায় বিদ্রোহী আরাকান আর্মি। এরপর থেকে আরাকান আর্মির সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধ চলছে।
রাখাইনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যর্থ হওয়ায় অনেক শহর ও সীমান্ত চৌকী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। প্রাণ বাঁচাতে তিন দিনে বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপির দুই’শয়ের বেশি সশস্ত্র সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সোমবার ৫ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে শূন্য রেখায় অবস্থান করছে ৪০০ মিয়ানমারের নাগরিক।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি ঘিরে রাতভর গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির শব্দে ভয় আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে সীমান্তবর্তী ১৩টি গ্রামের বাসিন্দরা। অনেকে সেখান থেকে অন্যত্র চলে গিয়েছে। সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া মর্টারের আঘাতে এক বাংলাদেশী সহ দুইজন নিহত হন।
রোববার থেকে সীমান্তের গোলাগুলি বেড়ে যাওয়ায় ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের কাছে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। মিয়ানমারের কোন নাগরিককে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নাইক্ষ্যংছড়িতে মর্টারশেলে নারী নিহতের ঘটনায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সীমান্তের বাসিন্দাদের সচেতন থাকতে বলেছে বিজিবি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়িয়ে বিজিবি ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।








