‘নান্দনিক চলচ্চিত্র মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) পর্দা উঠছে ‘একবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ এর। দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে এবার প্রদর্শিত হবে ৭২টি দেশের মোট ২৫২টি সিনেমা!
উৎসব নিয়ে বিস্তারিত জানাতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন লাউঞ্জে হয়ে গেলো সংবাদ সম্মেলন। যেখানে উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
এসময় তিনি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে জাতীয় আসছে শনিবার বিকেল ৪টায় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, ১৪ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি- মোট ৯ দিনে ১০টি বিভাগে বিশ্বের ৭১টি দেশের মোট ২৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে এবারের ২১তম আসরে।
ভেন্যু হিসেবে এবারও থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল ও সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও স্টার সিনেপ্লেক্স। উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ফাখরুল আরেফীন খান পরিচালিত ‘জেকে ১৯৭১’।
এ বিষয়ে উৎসব প্রধান বলেন, এবারের উদ্বোধনী ছবি নিয়ে আমাদের গর্ব হচ্ছে। কারণ ‘জেকে ১৯৭১’ এর নির্মাতা এক সময় আমাদের এই উৎসবের ভলেন্টিয়ার ছিলেন। ২১তম আসরের উদ্বোধন হচ্ছে তার সিনেমায়, সেজন্য আমরা গর্বিত!
এবারের উৎসবে বাংলাদেশ প্যানারোমায় হাওয়া, বিউটি সার্কাস, দামাল, পাপপুণ্য, সাঁতাও, দেশান্তরসহ বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা রয়েছে তালিকায়।
‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল’ বিভাগে ১১টি সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ওরা ৭ জন’ ও প্রামাণ্যচিত্র ‘দুর্বার গতি পদ্মা’। এ ছাড়াও ‘অপরাজিত’, ‘অভিযান’, ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’, ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘ঝরা পালক’, সাই পল্লবি অভিনীত ‘গার্গি’ ও ‘মহানন্দা’র মতো সিনেমা বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শিত হবে।
এ বছর রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগে দেখানো হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফরাসি অতর চলচ্চিত্র নির্মাতা ফ্রাসোয়াঁ ত্রুফোর ৪টি চলচ্চিত্র। এরমধ্যে আছে ‘দ্য ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ, কনফিডেনশিয়ালি ইওরস, জুলে এ জিম এবং দ্য লাস্ট মেট্রো।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন জামাল। তাকে উদ্দেশ করে একজন সংবাদকর্মী জানতে চান, দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে কেন বাণিজ্যিকঘরানার শিল্পী,নির্মাতাদের দেখা যায় না। সবাইকে নিয়ে কেন চলচ্চিত্র উৎসবটি করা হয় না?
এমন প্রশ্নে উৎসব পরিচালক বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির এই চলচ্চিত্র উৎসব চলছে। প্রতিবারই সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই উৎসবের দরোজা সবার জন্য সব সময় খোলা।








