ইউক্রেনে রুশ হামলায় শিশুসহ নিহত ১৯

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রিলুকি শহরে আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র এক বছর। হামলায় একটি পাঁচতলা ভবনের ৩০টি ফ্ল্যাট ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বুধবার ভোরে রাজধানী কিয়েভের পূর্বদিকে অবস্থিত প্রিলুকি শহরে এই হামলা চালানো হয়। একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক বাসিন্দা হতাহত হন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি।

চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, শহরটিতে পাঁচটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ‘সবচেয়ে নৃশংস হামলাগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, হামলায় মোট ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে এটিকে ‘জন্মদিনের উপহার’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিহত শিশুদের মধ্যে আলেক্সান্ডার, কিরিলো ও সার্হেই নামে তিন এক বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এছাড়া আট বছর বয়সী ম্যাকসিমও নিহত হয়েছে। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেতস্কি জানান, এক বছর বয়সী সাশা তার মা কাতেরিনা ও নানি ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিহত হয়েছে। শুধু সাশার বড় বোন ওলহা বেঁচে গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভবনের পঞ্চম তলায় থাকত। কাতেরিনা একটি কারখানায় কাজ করার সময় তার মা ভিক্টোরিয়া নাতিকে দেখাশোনা করছিলেন।
এদিকে, ইউক্রেনজুড়ে বুধবার রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কিয়েভে দুইজন, ক্রেমেনচুকে দুইজন এবং ওলেক্সান্দ্রিয়ায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। ক্রেমেনচুকে হামলায় ৪৩০টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ও ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
রাশিয়া প্রিলুকিতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক শিল্প স্থাপনা।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রুশ হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি ছিল জেটচালিত ড্রোন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ২৬টি পর্যন্ত ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো। এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পর মস্কো এ ধরনের হামলা আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
এর পাল্টা জবাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। কৃষ্ণসাগরেও একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, কৃষ্ণসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘রিও’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে মানববিহীন নৌযান দিয়ে হামলা চালানো হয়। জাহাজটির সব নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
এ ছাড়া মঙ্গলবার ড্রোন হামলার পর ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানও বন্ধ করেছে বুলগেরিয়া। জাহাজটিতে সিরীয় নাগরিকরা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই এলাকায় শস্যবাহী আরেকটি জাহাজেও হামলা হয়। তবে সেটির ১৮ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাগুলোর জন্য কারা দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত করেনি বুলগেরিয়া।






