হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুনে ১৬৮ মৃত্যু, ক্ষমা চাইলেন প্রধান নির্বাহী

ছবি: সংগৃহীত
হংকংয়ে একটি আবাসিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী জন লি। গত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মকে দায়ী করেছে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে সরকারি বিভাগগুলোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জন লি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জন লি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজন ও শহরের বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চান তিনি। পরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মাথা নত করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন হংকংয়ের আবাসনবিষয়ক সচিব উইনি হো।
সরকার প্রকাশিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক ভবনে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ ছিল জ্বলন্ত কোনো বস্তু, সম্ভবত সিগারেট। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনে থাকা কাগজজাতীয় সামগ্রীতে। ওই সময় ভবনটিতে ব্যাপক সংস্কারকাজ চলছিল।
প্রতিবেদনে সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আগুন প্রতিরোধে সক্ষম নয়, এমন জাল দিয়ে ভবনের চারপাশের ভারা ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে জানালা দাহ্য ফোম বোর্ড দিয়ে বন্ধ রাখা।
এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মানার বিষয়টি দেখাতে নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলো নথিপত্রে জাল তথ্য ব্যবহার করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি সংস্কারকাজের প্রধান ঠিকাদার, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের কঠোর সমালোচনা করেছে। তবে কমিটির মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলো অনিয়মের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে এবং যথাযথ নজরদারি চালালে এসব ত্রুটি ও অগ্নিঝুঁকি দূর করা সম্ভব হতো।
প্রতিবেদনে হংকংয়ের নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অনিয়মের কথাও উঠে এসেছে। এতে বেআইনি কার্যক্রম, সন্দেহজনক চর্চা এবং দরপত্রে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষও এসব অনিয়মে জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জন লি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা তদন্ত করা হবে। আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা একটি ইউনিটও পুনর্গঠন করা হবে।
দরপত্রে যোগসাজশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নির্মাণস্থলে ধূমপান শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইনফ্রারেড ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
হংকংয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাই পো জেলায় অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত। সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বসবাস করতেন। বাসিন্দাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। নিহতদের অনেকেই ছিলেন বয়স্ক।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজারো অগ্নিনির্বাপণকর্মী কাজ করেন। উদ্ধার অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী দমকলকর্মী হো ওয়াই-হো প্রাণ হারান।
ঘনবসতিপূর্ণ হংকংয়ে বহু মানুষ একই ধরনের পুরোনো বহুতল ভবনে বসবাস করেন। ফলে এ অগ্নিকাণ্ড শহরজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি ওঠে।






