নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ৭ মে শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন নেত্রকোনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালত। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে মদন থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে ব্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪ জানায়, গ্রেফতার এড়াতে সাগর তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না, ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে র্যাব-১৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত অক্টোবরে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েকমাস পর থেকেই অভিযুক্ত সাগর আত্মগোপনে চলে যান। তিনি প্রথমে গাজীপুর, পরে টঙ্গী হয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অবস্থান নেন। র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আসামি গ্রেপ্তার করার আগে ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আসামি যখন গ্রেপ্তারই হননি তখন ডিএনএ টেস্ট হবে কিভাবে! তদন্তের প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করতে হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি। শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা ডা. সায়মা আক্তারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রকোণা জেলা পুলিশের এসপি বিষয়টি তদারকি করছেন।ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যারা চিকিৎসককে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বিষয়টি র্যাবের সাইবার টিম পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার হওয়া সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। সে তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ এবং মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
জানা যায়, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে তিনি জানতে পারেন, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নেত্রকোণার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।







