চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

তাজরীন ট্র্যাজেডির ১০ বছরেও মেলেনি ন্যায়বিচার

Nagod
Bkash July

তাজরীন ট্র্যাজেডি ১০ বছর। ২০১২ সালের এ দিনে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ অনেককে শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।

Reneta June

তবে এই দীর্ঘ সময়েও ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এরই মধ্যে অনেক শ্রমিক পরিবার আশুলিয়া ছেড়েছেন। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বলছেন, সাক্ষ্য দিতে শ্রমিকরা আদালতে না আসায় মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, দীর্ঘদিনেও মামলা শেষ না হওয়ায় আসামিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১৭ জন পোশাক শ্রমিক নিহত ও ২০০ জনের অধিক আহত হন। অগ্নিকাণ্ডের পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ১০ বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। সাক্ষীরা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। মামলাটি শেষ করতে আর কত দিন লাগবে তাও জানেন না তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ.কে.এম. শাহ নেওয়াজ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মাত্র ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ছয় পুলিশ সদস্যসহ ২৬ জন সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হচ্ছেন না। তাদের গ্রেপ্তার করে সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত করা হচ্ছে না। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন সাড়া দেন না। সাক্ষ্য দিতে তাদের কোনো আগ্রহও দেখা যায় না।

বিচার শুরুর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি মামলাটির। সাক্ষ্যগ্রহণে থমকে থাকা মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চায় আসামিপক্ষ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম গোলাম গাউস বলেন, অধিকাংশ তারিখেই মামলার সাক্ষী আদালতে হাজির হচ্ছে না। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচার কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। সাক্ষী না আসলেও আসামিদের তো নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা চাই মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়। ন্যায়-অন্যায় আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।

ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারা যুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান আদালতে তাজরীন ফ্যাশনস-এর মালিক দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, লোডার শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপার ভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল।

ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বলে তাদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে গেট লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর, ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

BSH
Bellow Post-Green View