বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার ২০১৮ সালে ৭০তম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের প্যারিসে মানবাধিকার সনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী এক বছরের জন্য নানা ধরনের প্রচারণার কাজ হাতে নিয়েছে জাতিসংঘ।
রোববার বছরব্যাপী এ প্রচারণা শুরু করেছে ফ্রান্সের প্যারিসে শহর থেকে। মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার নিউইর্য়কে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতিসংঘ। বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের তথ্যকেন্দ্রগুলোতে স্মারক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
১৯৪৮ সালে সংস্থাটি বিশ্ব মানবাধিকার সনদ সর্বজনীন ঘোষণার পর থেকে শান্তি ও উন্নয়নে মানবাধিকার জাতিসংঘের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস।
১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস তার বাণীতে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরদর্শী চুক্তি ছিলো মানবাধিকার সনদের চুক্তি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সর্বজনীন ঘোষণা ছিলো প্রত্যক জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, রাজনীতি, বিরোধী মতামত, জাতীয় ও সামাজিক, সম্পত্তি ও জন্মগত অধিকার আদায়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহাসিক সনদটি বিশ্বব্যাপী ৫০০টি ভাষায় অনূদিত হয় বলে তিনি জানান।
তবে বিশ্বেব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো চলছে। মানবাধিকার সনদ বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়িয়েছে। সহিংসতা হ্রাস, ন্যায় বিচার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন আরো শক্তিশালী করেছে মানবাধিকার সনদের এই ঘোষণা। অহিংসতা, নৃশংসতাসহ নানা ধরনের অপরাধ আমাদের নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের প্রত্যককে তার নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে সুন্দর পৃথিবী নির্মাণে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার হাইকমিশনার জায়েদ রায়াদ আল হোসাইন বলেন, ‘মানবাধিকার সনদ সর্বজনীন ঘোষণা করা জন্য আমি ধন্যবাদ জানায়। এ সনদ প্রত্যকদিন মিলিয়ন মানুষের জীবনকে উন্নত করেছে, মানুষের অসহনীয় যন্ত্রণা লাঘব হয়েছে। এ সনদের জন্য একটি ন্যায় বিচারের পৃথিবী আমরা পেয়েছি।আমরা সনদের প্রত্যকটি বিষয় মানতে পারলে বিশ্বে ন্যায় বিচার, সমতা, এবং মানুষের সম্মান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংস্থাটির হাইকমিশানর আরো বলেন: সম্প্রতি ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হত্যাকাণ্ড হ্রাসে এ সনদ যে ভূমিকা পালন করেছে তাতে প্রতিষ্ঠাতার প্রতি সম্মান এবং এই সংস্থার নানা অর্জনের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো উচিৎ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে মানবাধিকার সনদ নানাদিক থেকে হুমকির সম্মূখিন হচ্ছে।
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং আমাদের সুন্দর ভবিষতের জন্য আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জনিয়ে তিনি আমাদের অপরের মানবাধিকার কে সুরক্ষা তরতে সাহায্য করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাহলেই আমরা সুন্দর একটি পৃথিবী পাবো।








