লিগ তো শেষ হল, ম্যাচ ফি শেষ অবধি কত করে পেলেন? প্রশ্নটা শুনে একটু বিব্রতই হলেন অষ্টম জাতীয় ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন খুলনার অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘যেটা ছিল ওটাই। আর বাড়েনি।’ টাকার অঙ্ক মুখে আনতে লজ্জাই পাচ্ছিলেন রুমানা। তাই একটু ঘুরিয়ে জবাব।
মেয়েদের জাতীয় লিগ শুরুর আগে শোনা গিয়েছিল হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে ম্যাচ ফি। কিন্তু কথা রাখেনি বিসিবি। ম্যাচ প্রতি ৬০০ টাকা পেয়েই তাই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগ্রেসদের। তারপরও আক্ষেপ নেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রুমানার। ম্যাচ খেলতে পেরেই খুশি তিনি, ‘টাকা অনেক কম, তারপরও আমরা আক্ষেপ করিনি। কারণ বোর্ডের কাছে আমাদের প্রথম চাওয়া ছিল ম্যাচ খেলা। ম্যাচের আয়োজন করেছে, আমরা এতেই সন্তুষ্ট।’
পরে বোঝা গেল রুমানাদের খুশি থাকার কারণ শুধু এই টুর্নামেন্টই নয়, সামনে আরো খেলার আশ্বাসই তাদের কাছে বড় আনন্দ। রুমানা বললেন, ‘আমাদের কোচ (ডেভিড ক্যাপেল) ছিলেন এখানে। উনি অনেক আশা দিয়ে গেছেন। সামনে আমাদের নিয়ে অনেক আশ্বাস দিলেন। হাই-পারফরম্যান্স টিম করার চিন্তা করা হচ্ছে। ঈদের পর প্রিমিয়ার লিগ হবে।’
টাকার অঙ্কটা কম বলে লিগে কম প্রাপ্তি দেখছেন না রুমানা। লিগে অনেক নতুন মেয়ে নজর কেড়েছে বলে জানালেন, ‘দুই ভেন্যুতে খেলা হওয়ায় আট দলের সব ম্যাচ আমি দেখতে পারিনি। যতটুকু দেখেছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। এই লিগ থেকে অনেক নতুন প্রতিভা বেরিয়ে এসেছে। এই ধরনের টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এখানে সিনিয়ররাও অংশ নিতে পারি, আবার জুনিয়ররাও। যে জুনিয়ররা বেরিয়ে এসেছে তাদের অনেককে চিনিও না। অথচ তারা ভালো খেলেছে। সব মিলিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। আমাদের টিমও একদিন ভাল জায়গায় যাবে।’
লিগ বলা হলেও খেলা হয়েছে আসলে টুর্নামেন্টের আদলে। রাজশাহী ও বগুড়ায় চারটি করে দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলেছে। যেখানে প্রতিনিধিত্ব ছিল দেশের আটটি বিভাগের। রোববার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৪ রানে জিতে যায় রুমানা আহমেদের দল। এই নিয়ে আট আসরের মধ্যে পাঁচবার শিরোপা জিতল খুলনা।

অধিনায়ক হয়ে প্রথমবারই খুলনাকে শিরোপা দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত রুমানা বললেন, ‘খুলনার হয়ে অধিনায়কত্ব করে এই প্রথম শিরোপা জিতলাম। খুব ভাল লাগছে। দুই মৌসুম পর খুলনা আবার শিরোপা জিতল। যেখানে আমারও অবদান আছে। ফাইনালে ভাল একটা ইনিংস খেলেছি এটা আলাদা করে ভাল লাগার মতো।’
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই খুলনার। লিগে অংশ নেওয়া আট বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য আনতে শীর্ষ ৪০ ক্রিকেটারকে সমানহারে ভাগ করে দেয় বিসিবি। তারপরও খুলনার অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।
মাঠের খেলায় সফলতা এলেও এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ম্যাচ ফি নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। পরে বিসিবি এক রকম বাধ্য হয়েই ম্যাচ ফি বাড়ানোর আশ্বাস দেয়। সেটাও খুব বেশি নয়— ছয়শ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার! সেটাও অবশ্য দেয়া হয়নি ক্রিকেটারদের। তারপরও রুমানাদের সন্তুষ্ট হওয়াটা এক রকম বিস্ময়করই! টাকার অঙ্ক ছয়শ হলেও খেলতে পারার প্রাপ্তিতেই খুশি তারা।








