মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ৩৪টি কোম্পানির ওষুধ উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন হাই কোর্ট। ২০টি কোম্পানির সব ওষুধ ও ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের আদেশ বহাল রেখে সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রায় দেন।
নির্দেশনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন প্রতিনিধিসহ মোট পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। এসব কোম্পানী যদি পুনরায় উৎপাদনে ফেরার আবেদন করতে চায়, তাহলে এই কমিটির কাছে কোম্পানির গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিসের (জিএমপি) মান যাচাই করাতে হবে এবং এই কমিটি লাইসেন্সের জন্য ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে সুপারিশ করবে।
রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ড্রাগ এ্যডমিনিস্ট্রেশনের ডিজি কে প্রতি তিন মাস পর পর এই ৩৪ কোম্পানির মনিটরিং রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ৭ জুন মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানিকে সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এই ৩৪টি কোম্পানির ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গত বছরের ৫ জুন এ সংক্রান্ত রিট করেছিল।এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায়ের জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি এই ৩৪টি কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়।
যে ২০টি কোম্পানিকে সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, সেগুলো হচ্ছে – এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যালস, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড, জলফা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস, রেমো কেমিক্যালস (ফার্মা ডিভিশন), রিড, স্কাইল্যাব, স্পার্ক, স্টার, সুনিপুণ, টুডে, ট্রপিক্যাল ও ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস।
যে ১৪টি কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুল হচ্ছে: আদ্-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যালস (ফার্মা), ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্টাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথকেয়ার, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি, রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস।








