রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার কাঁটাসুর এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনকে হত্যা মিশন সম্পন্ন করা হয় মাত্র ৩০ হাজার টাকায়।
এই হত্যা মিশনের মূলহোতা শ্রমিক লীগ নেতা তাজেল গাজী। মোহাম্মদপুর থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করা লেগুনার যানবাহনের নিয়ন্ত্রণের বিরোধ ধরেই এই হত্যাকাণ্ড।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার কাটাসুর এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শ্রমিকলীগ নেতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
শ্রমিকলীগ নেতা তাজেলসহ গ্রেফতার অন্যরা হলেন- ইকবাল হোসেন (২২), মো. শাকিল (২৫), মো. রাকিব (১৯), মো. ইব্রাহিম (১৯) ও মো. সুজন (২৪)।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুরে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনকে গত সোমবার (২৯ জুলাই ) রাতে কয়েকজন যুবক কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলম চাঁন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তে নেমে সুজন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেয়। এরই সূত্র ধরে মোহাম্মদপুর থেকে শ্রমিকলীগ নেতা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রমিক লীগ নেতা তাজেলের বিষয় ডিসি আজিমুল বলেন: তাজেল বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা এলাকায় লেগুনাস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
লেগুনাস্ট্যান্ড স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিহত কামালের সঙ্গে দ্বন্দের জেরে মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
যেভাবে হত্যা
কাঁটাসুর এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনকে হত্যা মিশনে অংশ নেয় পাঁচ থেকে ছয় যুবক। মুখে মাস্ক পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাসার সামনেই অতর্কিত হামলা করে তারা। ঘটনার সময় বাসার সামনে লুডু খেলছিলেন কামাল। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
গুরুতর আহত কামালকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কামাল পরিবার নিয়ে কাটাসুর এলাকার তিন নম্বর রোডে বাস করতেন। তিনি ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সবশেষ তিনি ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ইট-বালু ব্যবসা রয়েছে তার।








