পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া একই প্রকল্পে সমপরিমাণ ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।
ঋণের এই অর্থে ৩০টি পৌরসভায় বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় উপকৃত হবেন প্রায় ৬ লাখ নাগরিক।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে একটি ঋণচুক্তি সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের আইডিএ মার্চি মিয়াং টেম্বন।
দেশের ১৯ জেলায় ৩০টি পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার লক্ষ্যে প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
অনুষ্ঠানে মনোয়ার আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো করছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পৌরসভাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। প্রকল্পটি যাতে সময় মতো বাস্তবায়ন হয় সেজন্য মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ ব্যয়ে আমরা সবসময়ই সচেষ্ট রয়েছি।’
মার্চি মিয়াং টেম্বন বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে ছোট শহর ও যেসব শহরে বস্তি রয়েছে সেখানকার অধিবাসীদের পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া ড্রেন উন্নয়ন ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হবে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করায় মহিলাদের পানি সংগ্রহ সহজ হবে। শিশুরা পানিবাহিত রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবে। ফলে তাদের স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। তাছাড়া এসডিজির ৬ নম্বর গোল বাস্তবায়নে সহায়তা করবে প্রকল্পটি।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে নির্ধারিত ৩০টি পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং পৌরসভাগুলোতে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার; যা স্থানীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণের বাইরে এআইআইবি ঋণ দেবে ১০ কোটি ডলার এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি ৯৫ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঋণের ছাড়কৃত অর্থেও ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ঋণের অর্থ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। যেসব পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে
নারায়ণগঞ্জ জেলার তারাবো পৌরসভা, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী, ভুয়াপুর পৌরসভা, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, চট্টগামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ পৌরসভা, কুমিল্লার হোমনা, দেবিদ্বার পৌরসভা, ফেনীর পরশুরাম, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, নোয়াখালীর সেনবাগ, বগুড়ার কাহালু ও শিবগঞ্জ পৌরসভা।
এছাড়াও জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি, আক্কেলপুর পৌরসভা, নাটোরের বনপাড়া, বড়াইগ্রাম পৌরসভা, চাঁপাইনবাগঞ্জের নাচোল পৌরসভা, রাজশাহীর কাটাখালী, তাহিরপুর, বাঘা পৌরসভা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া, যশোরের চৌগাছা, মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কমলগঞ্জ এবং জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।










