কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকালে পৃথকভাবে ২ হাজার ৬৭৮জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পৃথকভাবে এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ।
সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি ও কোষ্টগার্ডের বরাত দিয়ে খালেদ মাহমুদ বলেন, আজ ভোর সকাল থেকে নাফ নদীর মোহনা, সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ, উখিয়ার পালংখালী, ধামনখালী, রহমতেরবিল সহ নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু সহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়। পরে দায়িত্বরত বিজিবি ও কোষ্টগার্ডের সদস্যরা তাদের প্রতিহত করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে পুলিশ পোষ্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্য বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ উপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুন সহ নানা নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন।
এ কারণে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে আসছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৯০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।
এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের উপর। কিন্তু, এর কোন তোয়াক্কা না করে আরকানে ফের সেনা মোতায়েন করলে বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে জড়িয়ে পড়ে সে দেশের সেনা বাহিনী ও পুলিশ।








