পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে সিলেটে দ্বিতীয় ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। লিটন দাস ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তার ভালো দুটি জুটির পর শেষ বিকেলে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৩৬ রানের। জয়ের জন্য চতুর্থ ও পঞ্চম দিন ব্যাটের সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তান, লক্ষ্য ৪৩৭, সিরিজে সমতা টানতে সফরকারীদের অবশ্য গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড।
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের বিকেলে সোমবার মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরির পর ১৩৭ রানে আউট হয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন তিনি, ছাড়িয়ে গেছেন ১৩ শতকের মুমিনুল হককে।
পাহাড়সম লক্ষ্যের সামনে পাকিস্তান। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানতাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় ৪১৮ তুলে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের দেয়া ৪৩৭ লক্ষ্য টপকাতে উইন্ডিজের রেকর্ড ভাঙতে হবে শান মাসুদের দলকে। পাকিস্তানকে তাই গড়তে হবে ইতিহাসই।
চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে চারশত রান টপকে জয়ের রেকর্ড নেই কোন দেশের। সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে ওই রান তুলে জিতেছিল তারা।
টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে চারশো রান তুলে জয়ের রেকর্ড আছে মাত্র চারটি, সর্বোচ্চ ৪১৮ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৪ করে জয়ের রেকর্ড আছে সাউথ আফ্রিকার। তৃতীয়টি অস্ট্রেলিয়ার, ৪০৪ রান করে জিতেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। একটি ভারতের, ৪০৩ রান করে জিতেছিল উইন্ডিজদের বিপক্ষে।
পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানতাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৩৭৭। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে ৭ উইকেট হাতে রেখে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা লঙ্কানদের বিপক্ষে।

সিলেটে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকা ম্যাচে তৃতীয় দিনের সকালে শুরুতেই আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। পঞ্চম উইকেট জুটিতে লিটন দাসকে নিয়ে ১২৩ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ৭৭ রানের আরও একটি জুটি গড়েন তিনি। এ জুটির সময়ে তুলে নেন নিজের ১৪তম ও দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের তকমা।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন। ৫২ রানে আগেরদিন ফিরেছিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
পাকিস্তানের পেসার খুররম শেহজাদ ৪টি ও সাজিদ খান ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ওভার খেলে কোন রান যোগ করতে পারেনি, উইকেটও হারায়নি।
এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে থামে ২৭৮ রানে। পাকিস্তান প্রথম ইনিংস শেষ করে ২৩২ রানে। বাংলাদেশ ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৩৯০ রানে থামে।







