আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানীর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রাথমিকভাবে ১০ গিগাবাইট পরিমাণ বিক্রি হলেও ভবিষ্যতে ৪০ গিগাবাইট পর্যন্ত বিক্রি হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।
শুধুমাত্র পড়ে থাকা ব্যান্ডউইথই বিক্রি হচ্ছে; তাই দেশের ব্যবহারকারীদের এতে কোনো ক্ষতি হবে না বলে নিশ্চিত করেছে বিটিআরসি এবং সাবমেরিন কেবল কোম্পানি।
ব্যান্ডউইথ আমদানিতে ভারতের দীর্ঘদিনের আগ্রহ এবং দেন দরবারের পর অবশেষে শুরু হচ্ছে রপ্তানী প্রক্রিয়া। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি পিছিয়ে পড়া রাজ্যে এই ব্যান্ডউইথ বিক্রির সমঝোতা হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরেই। তখনই সেকেন্ডপ্রতি ১০ গিগাবাইট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রপ্তানীতে রাজি হয়েছিলো বাংলাদেশ।
এ নিয়ে দেশের ভেতরে বিতর্ক থাকলেও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি এবং সাবমেরিন কেবল কোম্পানি বলছে, পরে থাকা ব্যান্ডউইথ কোনো কাজে আসে না বরং নষ্ট হয়।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনিল কান্তি বোস জানান, সাবমেরিন কেবলের লাইন আন্তর্জাতিকভাবে দেশে আনার জন্য এবং এর ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারকে অর্থ দিতে হয়। সুতরাং বছরের পর বছর এটি ফেলে রেখে কোনো লাভ নেই। তাই অর্থনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ব্যান্ডউইথ বিক্রির সিদ্ধান্ত লাভজনক।
ভুটান ও নেপালকেও এভাবে ব্যান্ডউইথ দেওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ সপ্তাহের পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যান্ডউইথ বাণিজ্যিকভাবে দেওয়া হবে বলে জানান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ডিজিএম আব্দুল ওয়াহাব। প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউইথ বিক্রি হবে ১০ মার্কিন ডলারে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ইন্টারনেটের চাহিদা ১শ’ ৩০ গিগাবাইট। যার মাত্র ৪১ গিগাবাইট আসে সাবমেরিন কেবল কোম্পানি থেকে আর বাকিটুকুর যোগান দেয় ৬টি আইটিসি। সাবমেরিন কোম্পানিতে মজুদ থাকে আরও প্রায় ১শ’ ৪০ গিগা ব্যান্ডউইথ।
সুনিল কান্তি বোস বলেন, সাবমেরিন কেবল কাটা পড়লে আগে দেশে ইন্টারনেট কাজ করতো না। অতিরিক্ত হিসেবে তখন ৬টি ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্স দেওয়া হয়। এদের অবকাঠামো অনুযায়ী এরা ৩শ’ গিগাবাইট পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ দিতে পারে।
বাংলাদেশ দ্রুতই দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হবে জানিয়ে তারা বলেন, তখন মজুদের পরিমাণ এক হাজার গিগাবাইট ছাড়িয়ে যাবে।






