‘জাতীয় ঐক্যে’র নামে একাদশ জাতীয় নির্বাচন বানচালের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি কথিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি এসেছে ১৪ দলের কর্মী সমাবেশ থেকে।
১৪ দলের নেতারা বিএনপি-জামায়াত এবং এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন: জাতীয় ঐক্যের নামে অসংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আনার সকল চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ দল রুখে দেবে। সেই সঙ্গে চক্রান্তকারীদের কালো হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
শনিবার বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের কর্মী সমাবেশ থেকে এমন ঘোষণা আসে। সভা সঞ্চালন করেন মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ।
সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন: ওই চক্রান্তকারীরা চেয়েছিল আমরা যেন আজ মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করতে না পারি। কিন্তু তাদের ওই চক্রান্ত সফল হয়নি। পাল্টা সমাবেশ দিয়ে আমাদের পথরোধ করতে চেয়েছিল। আমরা হলাম ‘বাঘের বাচ্চা’-বাঘের বাচ্চা। ১৪ দলের কর্মীরা হচ্ছে বাঘের বাচ্চা। যত বাধা দিবে, আমরা তত বেশি অগ্রসর হবো। আজকের সমাবেশ জনসমুদ্র হয়ে গেছে ইনশাল্লাহ্।
তিনি যোগ করেন: ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন: চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে। সব চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগের কর্মীদের, ১৪ দলের কর্মীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণকে জনগণের ঘরে বসে থাকার সময় নেই। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
রাজনীতির মাঠে নেতা ভাড়া করার নতুন রেওয়াজ চালু হয়েছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন: ওই চক্রান্তকারীদের বলে দিতে চাই, বিএনপি-জামায়াত তোমরা লোক ভাড়া করছো। ওই পরিত্যক্ত ওই নেতাদের ভাড়া করছো। যাদের কোন নীতি আদর্শ নেই, পলায়ন করতে অভ্যস্ত ওই নেতাদের ভাড়া করছো। খেলার মাঠে খেলোয়াড় ভাড়া করা হয়। রাজনীতির মাঠে নেতা ভাড়া করা হয় এটা প্রথমবার দেখলাম! মনে রাখবেন, বিশ্বকাপে মেসি গোল মিস করছে, নেইমার গোল মিস করছে কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা গোল মিস করবে না। ভাড়াটে দিয়ে কাজ হয় না, ভাড়াটে দিয়ে ওই জয় করতে পারবে না।
বলেন: একজন বিদেশে বসে চক্রান্ত করছে, আর দুই জন যার মধ্যে একজন বিদেশে পালনে অভ্যস্ত। ভাইয়েরা আমার বোনের আমার সতর্ক থাকবেন শেখ হাসিনা যখন ডাক দিবে কেউ ঘরে বসে থাকতে পারবেন না। ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। আগে যে জ্বালাও-পোড়াও করেছেন এবার তা করতে পারবেন না ইনশাল্লাহ্।
বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে নাসিম বলেন: শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করেছেন, জঙ্গি দমন করেছেন। তিনি সফল হয়েছেন। শুধু আমরা নয় বিশ্ব নেতৃত্ব বলছে শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হবে। বিশ্ব নেতারা বলেছে…. ঐ সমস্ত ‘চুনোপুটি’ দুর্নীতিবাজ নেতারা আজ মাঠে নেমেছে। বাংলার জনগণকে আমরা বলব, ছোটখাটো ভুল হয়তো আমরা করেছি; কিন্তু শেখ হাসিনা কাউকে খাতির করেন নাই। এমপি-মন্ত্রী কেউ খাতির পায় নাই, জেলে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি এখন ভুল করেন সেটা অনেক বড় ভুল হবে। বাংলাদেশে আবার ও হাওয়া ভবনের বাংলাদেশ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বলেন: শেখ হাসিনা আজকে দারিদ্র্যমুক্ত জঙ্গিমুক্ত আলোকিত বাংলাদেশ গড়েছেন। তাই এখন আর কোনো ভুল নয়, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারো নির্বাচিত করতে হবে। আমাদের এখন দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া। অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চক্রান্ত চলছে। বলবো, আবার যদি এই চক্রান্ত করেন, তাহলে আপনাদের কালো হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। একাত্তরের ঘাতক বিএনপি জামায়াতকে কোন ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ওরা বলছে অক্টোবরে মাঠে নামবে। আমি বলব ওই অক্টোবর তোমাদের জীবনে আর কখনো আসবে না। ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, তার আগে বাংলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ইনশাল্লাহ মাঠ গরম করবো।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন: আজকের এই কর্মীসভা কখন হচ্ছে, ঠিক পাঁচ বছর আগে তখন অগ্নিসন্ত্রাস রেললাইন উপড়ে ফেলা কোন খারাপ কাজ যা বিএনপি-জামায়াত করে নাই। গাজীপুর চৌরাস্তায় বাবা ছেলেকে ভ্যানে রেখেছেন সিএনজি খুঁজতে বেরিয়েছে, এর মধ্যে ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাবা এসে দেখলেন ছেলে অঙ্গার হয়েছে জ্বলছে। ওই নরপিশাচ জানোয়ারেরা আবারো নির্বাচন বানচালের জন্য নেমেছে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ওই ডক্টর কামাল হোসেন। ২০১৪ সালে শুধু দেশে নির্বাচনী হয় নাই, শেখ হাসিনা ৫ বছর সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করেছেন, দেশ শাসন করেছেন। মানুষের স্বাধীনতাকে বানচাল করার জন্য তারা আবারও আজ মাঠে নেমেছে।
তিনি যোগ বরেন: কিছুদিন আগে এখানে একটা সভা হয়েছে। কারা করেছে? যারা গত ১৪ সালের নির্বাচনকে বানচাল করতে চেয়েছিল। তাদের সঙ্গে ছিল ডঃ কামাল হোসেন! যে ৭৮ এ গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের ক্যান্ডিডেট ছিলেন। জেনারেল ওসমানীর ফাইনাল প্রজেকশন মিটিং ছিলো এই পল্টনে। সেদিনের আগের রাতে কামাল ভেগে গেলেন! ‘টাটা বাই বাই আমি নাই’, ইলেকশনের আগে যিনি ভেগে (পালিয়ে যাওয়া) যান তিনি নাকি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিবেন!
আরেকজন বি. চৌধুরী, জিয়াউর রহমান যেদিন মারা যায় তার পরের দিনের খবরের কাগজ এ হেডলাইন কি ছিল? ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট বাবার বুক ঝাঁজরা করে দিলো তুমি কোথায় ছিলে বদু কাকা! এটা হচ্ছে তারেক রহমানের বক্তব্য। ভুলে যায় নাই বাংলার মানুষ। এরপর কি দেখা গেল? ট্রেনে রেল লাইন দিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছেন বি. চৌধুরী। তারেকের গুণ্ডাবাহিনী তাকে তাড়া করছে। এখন তারা আবার স্বপ্ন জেগেছে কিছু একটা হবেন। দুই পলায়নকারী নেতা এবার গণতন্ত্রের নামে ষড়যন্ত্র রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে।
একটি জনপ্রিয় বাংলা গান উদ্ধৃত করে মতিয়া চৌধুরী বলেন: এদের দেখে আজম খানের একটি গান আমার মনে পড়ে যায়। ‘আমি বাঘ শিকার যামু, বন্দুক লইয়া রেডি হইলাম আমি আর মামু’ এখন তারা আবার রেডি হয়েছে গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য। ’১৪ তে যেমন পারে নাই এবারও পারবে না। বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত কতগুলো রাজনীতিক এই মঞ্চে বসে জোটগতভাবে জাতীয় ঐক্যের নামে আগামী নির্বাচন আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুলের পরিকল্পনা করেছে। তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুঁনেছে। আজকে বাংলার মানুষ ওই খুনি তারেককে ত্যাগ করেছে। ওই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মহানায়ক তারেককে বাঁচাবার জন্য আজকের ঐক্য করা হয়েছে। আগামী দিনের নির্বাচন বাংলার মাটিতে যেন না হতে পারে সেজন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যের নামে এমন একটি হীন চক্রান্তের জাল পাতা হয়েছে। 
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন: যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, নির্বাচন করতে চায় না; তাদের মুখে যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শোনা যায়, তখন দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। নির্বাচনের বিকল্প আমরা বাংলাদেশ দেখেছি। কিন্তু সেটা কোনভাবেই দেশবাসীর মঙ্গল সাধন করে না। যারা সেদিন পর্যন্ত ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সঙ্গে ছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন চান না তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে! এটা দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। পৃথিবীর মানুষ গ্রহণ করবে না।
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) সভাপতি নূরুল আম্বিয়া বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সুবিধাভোগী। তারা অবহেলিত মানুষের প্রতিনিধি নয়। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে যতই ষড়যন্ত্র করুক। আমরা ১৪ দল একত্রে তাদেরকে মোকাবেলা করবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ১৪ দলকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেন্ট যাতে আমাদের পক্ষে আসে সেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা ব্যর্থ রাজনীতিবিদ। এরা মীর জাফর, এরা ক্ষমতা লোভী। ১৪ দলীয় রাজনীতি জোট, কোনো ক্ষমতা লোভী জোট নয়। ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ ভাবে এদের মোকাবেলা করবে।
কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা রাশেদুল ইসলাম খান বলেন: জাতীয় ঐক্যের নেতারা একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে আপর দিকে সাম্প্রদায়িক শক্তি সঙ্গে ঐক্য করেন। আসলে এরা সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ। এদের বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। তাদের সমস্ত ষড়ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ ভাবে মোকাবেলা করবে ১৪ দল।








