দুনিয়া কাঁপানো ‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারির সেই আলোচিত প্রতিষ্ঠান মসাকা ফনসেকার দাবি তারা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।
মসাকা ফনসেকার অন্যমত প্রতিষ্ঠাতা ফনসেকা দাবি করেছেন তার প্রতিষ্ঠান নাকি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিলো। ব্যক্তিগত নথিতে অনধিকার হস্তক্ষেপ ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রকাশের দায়ে গণমাধ্যম সংস্থাগুলোকেও অভিযুক্ত করছে তারা। শুধু তাই নয় পানামার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে একটি অভিযোগও দায়ের করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ৪০ বছরের যাত্রায় প্রথমবারের মতো কলঙ্কিত হতে হলো বলে মন্তব্য ফনসেকার।
তথ্য ফাঁসের ব্যাপকতায় সংখ্যার হিসাবে যা ১ কোটি ১৫ লাখ, নথি প্রকাশের ঘটনার প্রেক্ষিতে র্যামোন ফনসেকা বলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ কাজ নয়। বিদেশি কোন সার্ভারের দ্বারা কোম্পানিটি হ্যাকড হয়েছিলো। পানামা ভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানটি গত সপ্তাহে তাদের ইমেইল সার্ভার একটি অবৈধ লঙ্ঘণের দ্বারা আক্রান্ত বলে ক্লায়েন্টদের কাছে ইমেইল বার্তা পাঠিয়েছিলো বলে জানা যায়।
আলোড়ন তোলা ফাঁসের পরও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ায় “গোপনীয়তা কোন মানবাধিকার নয়, ধারণাটি মানুষ এখন গ্রহণ করেছে” মন্তব্য করে ফনসেকা জানান, “একটি অপরাধ এখানে সংগঠিত হয়েছে” এমন কথা কেউ না বলায় আমরা বিস্মিত।
“ব্যক্তিগত নথিতে অবৈধ প্রবেশ এবং কোম্পানি থেকে ফাঁস করা তথ্য” অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যম সংস্থাকে অভিযুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির জনসংযোগ প্রধানের পক্ষ থেকে রবিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে পাঠানো একটি চিঠিতে বেআইনিভাবে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহারের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেয়া হয়েছে।
বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়া তথ্য ফাঁসের ঘটনার প্রভাবও কিন্তু কম নয়। ইতিমধ্যে একটি অফশোর কোম্পানির মালিকানা থাকা সত্যেও তা গোপন করার তথ্য সম্বলিত নথি প্রকাশের ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার) পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। লাখ লাখ ডলারের পারিবারিক সম্পত্তি গোপন করার দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি। তবে কোন অপকর্মের দায় অস্বীকার করে স্ত্রীর কাছে তার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানান। এছাড়াও বিশ্ব নেতা, ধনী ও ক্ষমতাবানদের সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে কয়েকটি দেশ।
বিপুল এই আর্থিক অনিয়মের তথ্য সম্বলিত নথি প্রথমে পায় জার্মান পত্রিকা সুয়েডিউটশে জেইটাং। তারা তথ্যগুলো অনুসন্ধানি সাংবাদিকদের আন্তজার্তিক সংঘকে সরবরাহ করে। মোসাক ফনসেকা তাদের ক্লায়েন্টদের অর্থ পাচার, আইনি ফাঁকি এবং কর এড়ানোতে কিভাবে সাহায্য করে তাই ৭৬টি দেশের ১০৭টি গণমাধ্যম পর্যালোচনা করে দেখছে।







