প্রিয়াংকা সরকার। ভারতের বাংলা ছবির এ সময়ের ব্যস্ত নায়িকা। ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ওয়ার্ল্ড প্রযোজিত রফিক শিকদারের পরিচালনায় ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিতে অভিনয় করছেন। এ ছবির মহরতে অংশ নেওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এসেছেন। চলে যাবেন কাল রোববার সকালে। আবার আসবেন ২ মার্চ। শুটিংয়ে অংশ নেবেন ৪ মার্চ। আজ শনিবার বিকালে এফডিসিতে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন তার অভিনয় নিয়ে।
চ্যানেল আই অনলাইন : ‘হৃদয়জুড়ে’ ছবির সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?
ছবির পরিচালক রফিক শিকদারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে গল্প পাঠিয়েছিলেন। গল্পটি পড়ে ভীষণ ভালো লেগে যায়। কলকাতায় ছবির শুটিং করছিলেন নিরব। তার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ হয়। আলোচনা চূড়ান্ত হয় এভাবেই।

চ্যানেল আই অনলাইন : ছবিতে আপনার চরিত্রটি কেমন?
এখানে আমার চরিত্রের নাম নীলিমা। মিষ্টি মেয়ে। ঘটনাচক্রে অমিতকে (নিরব) ভালোবেসে ফেলি। সবমিলিয়ে মিষ্টি প্রেমের ছবি এটি।
চ্যানেল আই অনলাইন : বাংলাদেশের ছবি দেখেন?
দেখা হয় না। এত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে যে কলকাতার দুয়েকটি ছাড়া ওই ভাবে আর ছবি দেখা হয় না।
চ্যানেল আই অনলাইন : ফেব্রুয়ারি মাস চলছে, বাঙালী জাতির গর্বের মাস।
রক্ত দিয়ে বাংলাভাষা পেয়েছি। আমরা এই ভাষাটা পেয়েছি দীর্ঘ সংগ্রামেরই মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে এসে অন্যরকম এক অনুভুতি বোধ করছি। এখানকার মানুষই তো নিজের বুকের রক্ত ঝরিয়েছে মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য। আমি মায়ের ভাষার জন্য গর্ববোধ করি। তাদের সালাম যাদের সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে আমরা এই বাংলা ভাষা নিজের করে পেয়েছি।
চ্যানেল আই অনলাইন : বাংলাদেশের বই পড়া হয়?
অবশ্যই। আমি তো হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই পড়েছি। পড়ে ফেলা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমু ও মিসির আলী সিরিজের সব বই। ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘লীলাবতী’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘অপেক্ষা’সহ আরও কয়েকটি বই।

চ্যানেল আই অনলাইন : এখন কলকাতার কোন কোন ছবিতে অভিনয় করছেন?
তিনটি ছবির কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে রাজ চক্রবর্তীর ‘চ্যাম্প’, রাজা চন্দের ‘তুমি আমার আপনজন’ ও কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘ছায়া ও ছবির গল্প’।
চ্যানেল আই অনলাইন : টালিগঞ্জের ওপর বলিউডের প্রভাব কেমন?
প্রভাব তো আছেই। বলিউড অনেক বড় ইন্ডাষ্ট্রি। বিশ্ব জুড়ে তাদের ছবির বাজার। আর কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রি তো আঞ্চলিক। প্রভাবমুক্ত হওয়া একটু অসম্ভবই বলতে পারেন।
চ্যানেল আই অনলাইন : বাংলাদেশ ও ভারতের ছবি বিনিময়ে দু দেশের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির তৎপরতা কিছুদিন আগেও বেশ লক্ষ করা গেছে।
দেখুন, কলকাতা ও বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই একই ভাষা। আমরা যদি আমাদের ছবিগুলো বিনিময় অর্থাৎ সিনেমা হলে চালাতে পারি, তবে লাভ কিন্তু দুই দেশেরই। একদিকে যেমন ছবির বাজার বাড়বে অন্যদিকে দুই দেশের শিল্পীরা দুই ইন্ডাষ্ট্রিতেই অভিনয় করতে পারবে।
চ্যানেল আই অনলাইন : আপনার লক্ষ কী?
আমি নিজেকে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চাই। আমি চাই দর্শকদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে থাকতে। এজন্য শুধু নায়িকা হিসেবেই নয়, অভিনয়শিল্পী হতে চাই।

আলোকচিত্রী: ওবায়দুল হক তুহিন







