নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাণের মহান কারিগর হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে দেশজুড়ে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে এবং রসাত্মক ও বিজ্ঞানস্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্প বলায় ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দিতেন। বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম। মানুষের মানচিত্রও উঠে এসেছে। বাংলা সাহিত্যের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তাকে পথিকৃৎ বলেছেন সমোলোচকেরা। ১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পায়। তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শংখনীল কারাগার’। এই দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন। সেই থেকে জীবিতকালে তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়। সিনেমা পরিচালক হিসেবেও তার ছিলো প্রচুর সুনাম। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’। এই সিনেমার জন্য তিনি ১৯৯৪ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। একই বছর তিনি একুশে পদক অর্জন করেন। এরপর তিনি নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’ এবং ‘আমার আছে জল’সহ বেশ কিছ চলচ্চিত্র। তার নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হুমায়ূন আহমেদ শিল্প-সাহিত্যের যে ধারাতে হাত দিয়েছেন, সেখানেই রেখেছেন স্বকীয়তার ছাপ। তার সৃষ্টি হিমু-রূপা-মিসির আলি-বাকের ভাই দেশের মানুষের মনে আজও জীবন্ত। চ্যানেল আই প্রতিবছর এই বহুমুখী প্রতিভাধরের জন্মদিন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে। এ বছরও হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে হলুদ হিমু আর নীল রুপাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বর। তার শিল্পকর্মের নানা পরিবেশনা উপস্থিত জনগণ ও টেলিভিশনে কোটি দর্শককে করে তুলেছিল নষ্টালজিক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সংগঠনও এরকম নানা আয়োজন করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করা এই নন্দিত কথাসাহিত্যিকের স্মরণে যা তার প্রতি ভালোবাসার বহি:প্রকাশ। জাতি যুগের পর যুগ এভাবেই তাকে স্মরণ করবে বলে আমাদের ধারণা। জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই এই নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাণের মহান কারিগরকে।






