কৃষি পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণে ভালো উদ্যোক্তা পেলে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার। তবে সরকার হিমাগার নির্মাণ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। কুমিল্লার লাঙ্গলকোটে কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট আলোচনায় কৃষকরা বলেছেন, ভর্তুকি নয়, নীতি-সহায়তা এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ চান তারা।
কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে। এবছর ১২ বছরে পড়লো চ্যানেল আইয়ের কৃষিভিত্তিক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান হৃদয়ে মাটি ও মানুষের বাজেট বিষয়ক কার্যক্রম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট।
জাতীয় বাজেট কী, কেনই বা বাজেট দেয়া হয়, বাজেটে হিস্যা কী এসব সম্পর্কে কৃষকের জানা বোঝা তৈরি করতেই প্রতি বছর নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কৃষকের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কুমিল্লার লাকসামে স্থানীয় এবং সারা দেশের কৃষির সমস্যা তুলে ধরেন কৃষক।
তাদের অনেক না পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে আচরণ। সেখানে মোটর চালু হলেও ভোল্টেজ থাকে না। কখন বিদ্যুত যায়-আসে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিদ্যুৎ অফিস থেকে দেওয়া হয়না সেচের মিটারও।
ফসল কৃষির বাইরে উপখাতের মধ্যে সব চেয়ে ক্ষতির শিকার পোল্ট্রি চাষীরা। অসুস্থ পোল্ট্রি বাচ্চার কারণে আর প্রতিনিয়ত পোল্ট্রির খাবার ও ওষুধের দাম বাড়ার কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষীরা। কৃষির মতোই তাই পোল্ট্রিতেও ভর্তুকি চান চাষীরা।
বাজেটে বরাবরই উপেক্ষিত থাকে প্রাণিসম্পদ খাত। এবারো কি একই অবস্থা থাকবে? নাকি খাবার ও বাচ্চার দাম নিয়ে বহুজাতিক কোম্পানির কাছে জিম্মি দশা থেকে মুক্তির উদ্যোগ থাকবে সরকারের?
কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট আলোচনার উদ্যোক্তা শাইখ সিরাজ বাজেটে তৈরিতে সরকারকে আরো মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বীজের প্যাকেটেই কোম্পানীর সুবিধার কথা সব লেখা থাকে। কিন্তু বীজ থেকে যদি ফসল না গজায় তাহলে কৃষক কার কাছে যাবে বা কোথায় অভিযোগ করবে তার একটি কথাও লেখা নেই। ফিশারিজ, ডেইরি, পোল্ট্রিতেও যেন ট্যাক্স হলিডেটা একটু এক্সটেনশন করা হয়।
এসময় তিনি ভবিষ্যতের কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার কৌশল মাঠের কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ারও তাগিদ দেন সবাইকে।
নিজের নির্বাচনী এলাকার কৃষকের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, আমরা ভর্তুকি দেই কৃষকের জন্য। বিশেষ উদ্দেশ্যেই সেই ভর্তুকি। যাদের জন্য দিলাম তারাই যদি সুবিধাটা না পায় তাহলে সেটা পুরোটাই আমাদের ব্যর্থতা। কৃষির জন্য আপনারা যেসব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন, তা এবছর বাজেটে বাড়ানো হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমাদের চেয়ারম্যান যোগাযোগ করবেন। এখানে যত খাল আছে সব খাল খনন করে দেওয়া হবে। আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। যেদিন দেখবো দেশের কোনো কাজেই আমি আর আসছিনা, সেদিনই পদত্যাগ করে ফেলবো।
২০১৬-৭৬ অর্থবছরের বাজেট তৈরির আগে কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট আলোচনার পরবর্তী আয়োজন উত্তরের জেলা নীলফামারীতে।







