চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

হাসিবে বাঙালি জাতি, দেখিয়া তোমার ফাঁসি

রাজেশ পালরাজেশ পাল
১১:৪৬ অপরাহ্ণ ০৫, মে ২০১৬
মতামত
A A

৭১ এ মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর আর একাত্তরে ইসলামী ছাত্র সংঘের “নাজিমে আলা” মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপীল বিভাগ।ইতিহাসের আরেকটি কলংকজনক অধ্যায় আজ সমাপ্তির পথে। কিন্তু কে এই নিজামী? কেন তার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে এতো হইচই?

মতিউর রহমান নিজামীর জন্ম ৩১শে মার্চ ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে পাবনায়।একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রামে এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে যে সংঘটনটি দায়ী ছিলো, সেই কালো সোয়েটার পড়া কুখ্যাত ঘাতকবাহিনী আলবদরের সর্বাধিনায়ক ছিলেন তিনি। ছিলেন তাদের শিরোমণি। শহীদের রক্তে রঞ্জিত হাত নিয়ে স্বাধীনতার পরে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।জনশ্রুতি আছে বোরখা পড়ে আরব সাগর পাড়ি দিয়েছিল একাত্তরের এই জল্লাদ সর্দার।কিন্তু ভাগ্য সহায় হওয়ায় বেশীদিন কস্ট করতে হয়নি তাকে। ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন।যে দেশের জন্মেই ছিলো তার আপত্তি।

৭৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে জিয়াউর রহমান জামায়েতের রাজনীতি করার সূযোগ ফিরিয়ে দিলে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি।গ্রেফতারের আগে জামায়াতের সর্বোচ্চ পদ আমীর ও হয়েছিলেন। নস্ট রাজনীতির ভ্রস্ট পদক্ষেপে ২০০০ সালে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতার মঞ্চে আরোহণ করে জামায়াত।আর পুরষ্কার স্বরূপ শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তাকে পুরষ্কৃত করেন ম্যাডাম জিয়া। শহীদ মিনার কলঙ্কিত হয়ে পড়ে পাদস্পর্শে।লাখো শহীদের রক্তের মূল্যে কেনা লাল সবুজের বিজয় কেতন উড়িয়ে দেন নিজের গাড়িতে। কিন্তু ভাগ্যলক্ষী এইবার মুখ ফিরিয়ে নেন।বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক শুরু করে যুদ্ধাপরাধের বিচার।শাহবাগে ঢল নামে স্বতস্ফুর্ত তারুণ্যের। বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়।যার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপীলের কাল রায়। চার দশকের প্রতীক্ষার অবসানের পথপানে চেয়ে রয়েছে সমগ্র জাতি।

যুদ্ধাপরাধের বিচারঃ
১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার বিষয়ে ২০০৯ সালের ২৯শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব পাশ হয়। সংসদে গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়নে সরকার বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী অভিযুক্তদের তদন্ত এবং বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণাটি আসে ২০০৯ সালের ২৫শে মার্চ। ২০১০ সালের ২৯ জুন অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার নিজামীকে একই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।এরপর ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উপস্থাপন করে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ।২৮ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগ আমলে নেয়। ২০১২ সালের ২৮ মে থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ১৬টি অভিযোগে নিজামীর মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগসমূহঃ
রাষ্ট্রপক্ষ মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যেসব অভিযোগ আনেন সেগুলো হলো,
1. পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাওলানা কছিমুদ্দিনকে ১৯৭১ সালের ৪ জুন পাকিস্তানি সেনারা অপহরণ করে নূরপুর পাওয়ার হাউসের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিজামীর উপস্থিতিতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ১০ জুন তাকে ইছামতী নদীর পাড়ে আরো কয়েকজনের সঙ্গে হত্যা করা হয়।
2. ১৯৭১ সালের ১০ মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের রূপসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকারদের একটি সভায় নিজামী উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরিকল্পনা করে ১৪ মে পাকিস্তানি সেনারা দুইটি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪৫০ জনকে হত্যা করে এবং রাজাকাররা প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করে।
3. ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের ঘটনায় নিজামীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কারণ তিনি ঐ ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
4. করমজা গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ।
5. ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল নিজামীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা ঈশ্বরদী উপজেলার আড়পাড়া ও ভূতের বাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ২১ জন নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করা হয়।
6. নিজামী ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন ও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
7. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর সোহরাব আলী নামক এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও হত্যা করেন।
8. ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট নিজামী নাখালপাড়ার পুরোনো এমপি হোস্টেলে গিয়ে আটক রুমী, বদি, জালালদের হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানি সেনাদের প্ররোচনা দেন।
9. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর হিন্দু অধ্যুষিত বিশালিখা গ্রামে ৭০ জনকে গণহত্যা করেন।
10. নিজামীর নির্দেশে রাজাকাররা পাবনার সোনাতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র কুণ্ডুর বাড়িতে আগুন দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
11. ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউটে ইসলামী ছাত্রসংঘ আয়োজিত সভায় নিজামী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।
12. ২২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক একাডেমি হলে আল মাদানীর স্মরণসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য ১২ নম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
13. ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসংঘের সভায় বক্তব্যের জন্য ১৩ নম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
14. ১০ সেপ্টেম্বর যশোরে রাজাকারদের প্রধান কার্যালয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য ১৪ নম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
15. ১৯৭১ সালের মে মাস থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থিত রাজাকার ক্যাম্পে নিজামী ও রাজাকার সামাদ মিয়ার ষড়যন্ত্রে সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।
16. ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর জামায়াতের তত্কালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেন এবং আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিজামীর বিরোদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।

যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।তাঁর বিরুদ্ধে আনা ষোলটি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে।এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১ এই আদেশ দেন।নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগের জন্য তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি ৫, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিজামীকে খালাস দেয়া হয়েছে।
http://www.bbc.com/bengali/news/2014/10/141029_si_nizami_verdict_death

Reneta

নিজামী ছিলেন আলবদরের শিরোমণিঃ
একাত্তরে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘই ছিল কুখ্যাত রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর নেতৃত্বে। পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটিকে তখন রূপান্তর করা হয়েছিল আল-বদর হাইকমান্ডে। ছাত্রসংঘের সারা পাকিস্তানের প্রধান হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীই ছিলেন আল-বদরের সর্বেসর্বা। তার নির্দেশেই গড়ে ওঠে এ ঘাতক বাহিনী। শুধু সাধারণ মানুষকেই নয়, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করেছে ওরা। লাহোর থেকে প্রকাশিত সাইয়িদ মুতাক্কিউল রহমান ও সালিম মনসুর খালিদের লেখা ‘জাব ভুহ নাজিম-ই আলা দি’ (যখন তারা নাজিম-ই আলা ছিলেন) বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানী বংশোদ্ভূত গবেষক সাইয়েদ ওয়ালি রেজা নাসের তার The Vanguard of The Islamic Revolution : The Jamaat-i Islami of Pakistan বইয়ে লিখেছেন, একাত্তরে সরকারের অনুপ্রেরণায় ইসলামী ছাত্রসংঘ (ইসলামী জমিয়তে তুলাবা বা IJT) হয়ে ওঠে জামায়াতে ইসলামীর মূল শক্তি। আর্মির সহায়তায় এরা আলবদর ও আলশামস নামে দুটি প্যারামিলিটারি ইউনিট গঠন করে বাঙালি গেরিলাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য। ইসলামী ছাত্রসংঘের তখনকার প্রধান মতিউর রহমান নিজামী আলবদর ও আলশামস বাহিনী সংগঠিত করেন।

পাকিস্তানে নির্বাসিত আফগান সাংবাদিক ও গবেষক মুসা খান জালাজাই তার Secterianism and the politico-religious Terrorism in Pakistan গ্রন্থে লিখেছেন, সেনাশাসনের সঙ্গে ছাত্রসংঘকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেেত্র নিজামীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।… আল-বদর ও আল-শামস গড়ার সিদ্ধান্তটাও নিজামীর।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে পাঠানো গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, একাত্তরের ১৪ জুন ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমায় ইসলামী ছাত্রসংঘের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান নিজামী বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেনাবাহিনী যেভাবে কাজ করছে তাতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা সম্ভব। নিজামী বলেন, ইসলাম রায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নিজেদের দলীয় মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এ সে বছর ১৪ নভেম্বর ‘জনতার পার্লামেন্ট’ কলামে ‘বদর দিবস : পাকিস্তান ও আলবদর’ শীর্ষক এক নিবন্ধে নিজামী লিখেছিলেন, ‘আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে। পাক বাহিনীর সহযোগিতায় এদেশের ইসলামপ্রিয় তরুণ ছাত্রসমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আল-বদর বাহিনী গঠন করেছে।’ নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন আল-বদরের তরুণ যুবকেরা হিন্দুস্তানের অস্তিত্ব খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করবে।’ ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম-এ মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করার বিষয়ে নিজামীর অঙ্গীকারের কথা প্রকাশিত হয়। সংগ্রামের খবরটি এ রকমÑ যশোরে রাজাকার সদর দফতরে সমবেত রাজাকারদের উদ্দেশ্য করে নিজামী বলেন, ‘জাতির এই সংকটজনক মুহূর্তে প্রত্যেক রাজাকারের উচিত ঈমানদারীর সাথে তাদের উপর অর্পিত এ জাতীয় কর্তব্য পালন করা এবং ঐ সকল ব্যক্তিকে খতম করতে হবে যারা সশস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’

একাত্তরের ২৩ সেপ্টেম্বর নিজামী ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় আলবদর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে এক চা-চক্রে তিনি বলেন, মাদ্রাসা ছাত্ররা দেশ রায় একযোগে এগিয়ে এসেছে। কারণ তারা ইসলামকে ভালবাসে। পাকিস্তানকে ভালবাসে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)

নিজামীর কাছে পাকিস্তান ছিল ‘আল্লাহর প্রিয় ভূমি’। একাত্তরে চট্টগ্রামে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তার প্রিয়ভূমি পাকিস্তানকে রা করার জন্যে ঈমানদার মুসলমানদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু মুসলমানেরা যখন রাজনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা রাজনৈতিক পন্থায় করতে ব্যর্থ হল, তখন আল্লাহ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তার প্রিয়ভূমির হেফাজত করেছেন।’ (দৈনিক সংগ্রাম, ৫ আগস্ট ১৯৭১)

একাত্তরে পাকিস্তানের আজাদী দিবস (১৪ আগস্ট) উপলে ইসলামী ছাত্রসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সভা করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নিজামী। সভায় তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান কোন ভূ-খণ্ডের নাম নয়, একটি আদর্শের নাম। এই ইসলামী আদর্শের প্রেরণাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে এবং এই আদর্শই পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে সম।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামপ্রিয় ছাত্র সমাজ বেঁচে থাকতে পাকিস্তানের অস্তিত্ব টিকে থাকবে। ’ (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬ আগস্ট ১৯৭১)

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সমর্থকদের ভারতের এজেন্ট ও দুষ্কৃতকারী বলত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা। একইভাবে ওই সময় বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকেও ভারতীয় এজেন্ট বলে অভিহিত করেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী। আর জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম শহীদ মতিউরকে বলেছিল ‘বিশ্বাসঘাতক’।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য বাঙালি ফাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি জেটবিমান ছিনতাই করে পালিয়ে আসার সময় কো-পাইলট রশীদ মিনহাজ তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে একপর্যায়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। শহীদ হন মতিউর রহমান। মিনহাজও নিহত হয়। কিন্তু হানাদার বাহিনীর অন্যতম দোসর নিজামী তখন মিনহাজের পিতার কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ বীর মতিউরকে ভারতীয় এজেন্ট বলে উল্লেখ করেন। আর নিহত মিনহাজকে সম্বোধন করেন ‘শহীদ’ বলে। ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রামের পাতা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

‘মিনহাজের পিতার নিকট ছাত্রসংঘ প্রধানের তারবার্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংগ্রামের ওই খবরে বলা হয়, ‘পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি জনাব মতিউর রহমান নিজামী শহীদ রশীদ মিনহাজের পিতার নিকট এক তারবার্তা প্রেরণ করেছেন বলে সংগঠনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ। তারবার্তায় জনাব নিজামী বলেন যে, পাকিস্তানি ছাত্রসমাজ তার পুত্রের মহান আত্মত্যাগে গর্বিত। ভারতীয় হানাদার ও এজেন্টদের মোকাবেলায় মহান শহীদ মিনহাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অক্ষুন্ন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।’

এর আগে সে বছরের ১ সেপ্টেম্বর জামায়াতের পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামে ‘শহীদ মিনহাজের জীবনের শেষ কয়েকটি মুহূর্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘মাত্র ২০ বছর বয়সে যে বীর অমরত্ব লাভ করেছেন, তিনি শাহাদাত বরণ করার সময় তার দেশ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনী ছাড়া আর কিছুই স্মরণ করেননি। ‘আমাকে হাইজ্যাক করা হচ্ছে’– এই ছিল তার শেষ কথা যা টেপরেকর্ডারে ধরা পড়েছে। এই কণ্ঠস্বর ছিল পরিষ্কার ও জোরালো এবং কথাটি তিনবার উচ্চারণ করা হয়েছে। প্রথমবার ছিল অনুমান করার মতো ঠিক যখন বিশ্বাসঘাতক ফাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান তাকে কোরোফর্ম দিয়ে কাবু করার চেষ্টা করছিল।’’ ‘বেস কমান্ডারের তথ্য প্রকাশ’ উপশিরোনামে ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘যে বিশ্বাসঘাতক বিগত ২০ শে আগস্ট একটি ট্রেনিংদাতা জেট বিমানকে ভারতে হাইজাক করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় তার নাম হচ্ছে মতিউর রহমান। সে করাচীর মসরুর বিমানঘাঁটিতে চাকুরীরত ছিল বলে বেস কমান্ডার আজ তথ্য প্রকাশ করেছেন।’

কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতদন্ত কমিশনকে পাবনা জেলার বেড়া থানার বৃশালিকা গ্রামের আমিনুল ইসলাম ডাবলু জানিয়েছিলেন, তার পিতা মো. সোহরাব আলীকে একাত্তরে নিজামীর নির্দেশেই হত্যা করা হয়। সাত নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস (গ্রাম-মাধবপুর, পাবনা) কমিশনকে জানান, আলবদর ক্যাম্পে দুসপ্তাহ আটক থাকা অবস্থায় তাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। ওই সময় আলবদরদের একটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত থেকে নিজামী মুক্তিযোদ্ধাদের সমূলে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।

সবশেষে এর আগে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীরা যা করেনি, তাই করে বসলো নিজামী।নিজের সব দোষ স্বিকার করে আপীল আদালতের নিকট সাজা কমানোর অর্থাৎ প্রাণভিক্ষা করে বসলো সে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাশেরকেল্লায় খুব গর্ব করেই বলতো ,তাদের নেতারা মরলে শহীদ বাচলে গাজী।আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে তারা ক্ষমা ভিক্ষা করেনা। নিজামীর ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে তাদের সর্বশেষ অহংকাটুকুও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

আর রিভিউ খারিজের মধ্যে দিয়ে বলতে গেলে প্রায় নিশ্চিতই হলো এই নৃশংস খুনী যুদ্ধাপরাধীর চরম শাস্তি।যদিও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সূযোগ এখনো বাকি।এখন তাই রায় কার্য্যকরের জন্য চাতক প্রতীক্ষা।কারণ এই রায় কার্য্যকরের মধ্যে দিয়ে লাখো  শহীদের আত্মা পাবেন চির সন্তুষ্টি। আর নিজামীর উদ্দেশ্যে কবির ভাষায় বলতে হয় ,

“মায়ের বক্ষ ছিন্ন করিয়া হেসেছো অট্টহাসি ,
এবার হাসিবে বাঙালি জাতি, দেখিয়া তোমার ফাঁসি”

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল
আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: মতিউর রহমান নিজামী
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

জুলাই ৩, ২০২৬

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু

জুলাই ৩, ২০২৬

‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন যারা

জুলাই ৩, ২০২৬

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

জুলাই ৩, ২০২৬

ভোটগ্রহণ শেষ, এখন অপেক্ষা ফলাফলের

জুলাই ৩, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT