বাংলাদেশের প্রথম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একশ’ বছর পূর্তিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রকৌশলীদের দু’ দিনের সম্মেলন শুরু হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ এন্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ এবং জাপান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।
উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী প্রকৌশলী ইয়াফেস ওসমান। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ডক্টর এ এফ এম সাইফুল আমিন। সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর জামিলুর রেজা চৌধুরী।
ব্রিটিশ আমলে পদ্মা নদীর ওপর পাকশী-ভেড়ামারা এলাকায় নির্মিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০০ বছরে পা রাখে ৪ মার্চ। দীর্ঘ ৫ বছর সময় লেগেছিল এটি নির্মাণ করতে। ১৯১০ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়।
অবিভক্ত ভারতের কলকাতার সঙ্গে আসাম এবং ইস্টার্ন বেঙ্গলের যোগাযোগ সহজীকরণের লক্ষ্যে ১৮৮৯ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর আলোচনার পর ১৯০৮ সালে প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে সিঙ্গেল লাইনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও চূড়ান্ত নকশায় দ্বৈত লাইনের সংস্থান রাখা হয় এবং সে অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়।
ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন হিজ এক্সিলেন্সি দি ভাইসরয় অব ইন্ডিয়া ‘ব্যারন হার্ডিঞ্জ পেনসুরস্ট’।
সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮১ কি.মি.। মূল পায়ারের সংখ্যা ১৬, মূল স্প্যানের সংখ্যা ১৫টি, ল্যান্ড স্প্যানের সংখ্যা ৬টি। প্রতিটি ল্যান্ড গার্ডারের দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট। প্রতিটি মূল গার্ডারের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও ওজন ৩৪৫ ফুট দেড় ইঞ্চি, ৫২ ফুট এবং ১২৫০ টন। এ সেতু নির্মাণে মোট ২৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সেই সময় এটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি।






