সরকারের নীতিগত সহায়তা, প্রতিযোগিতামূলক মজুরি কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বমানের হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হতে চলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (আইডিসি)।
এতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে উল্লেখ করে আইডিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোবাইল ফোনের বাজার ও ১৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ল্যাপটপের বাজার রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে ২০১৭ সালে দেশে মোট ৩৪ মিলিয়ন মোবাইল ফোন আমদানি করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবসায় সফলতার সুযোগ বেশি এবং বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি যেমন ওয়ালটন, সিম্ফনি, স্যামসাং, ট্রান্সিশন হোল্ডিংস ইতোমধ্যে যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা নির্মাণ করেছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সম্মেলন কেন্দ্রে আইডিসি’র প্রকাশিত ‘ড্রাইভিং এ ডিজিটাল বাংলাদেশ থ্রু হাই-টেক মেনুফ্যাকচারিং’ নামের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ জানাতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ (বিসিজি) কুয়ালালামপুর অফিসের পার্টনার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিফ মুনির বলেন: বাংলাদেশ সরকারের হাই-টেক পণ্য উৎপাদন সহায়ক নীতিমালার কারণে ২০১৭ সালে দেশটিতে ১১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এসেছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের বাজারে প্রথম কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের বিক্রির সময় বেশিরভাগ ক্লোন বা ব্র্যান্ডবিহীন ডেস্কটপ বিক্রি হত। বিদেশ থেকে নানা যন্ত্রাংশ এনে বিক্রি করা হত। এখন এই চিত্র পাল্টে গেছে। আগে ফিচার ফোনের ব্যবহারকারী বেশি ছিল, কিন্তু এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফোরজির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সংখ্যা আরো বহু গুনে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, সরকার প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশী নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এতে বেশ সফলতাও আসছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি অনেক ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বিসিজি’র গ্লোবাল চেয়ারম্যান ড. হান্সপল বার্কনার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এবং আইসিটি বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজ।









