ক্রিকেট

হাথুরুসিংহেকে নিয়ে মহাবিপদে শ্রীলঙ্কা

হাথুরুসিংহেকে নিয়ে মহাবিপদে শ্রীলঙ্কা

চার মাস আগে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরপরই খবর বের হয় বরখাস্ত হতে পারেন শ্রীলঙ্কান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। সে যাত্রায় না হলেও বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর আবারও খবর, এবার বরখাস্ত হতে পারেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ। যদিও হাথুরু নিজে জানিয়েছেন, দায়িত্বে থেকে যেতে পারেন তিনি।

তবে হাথুরুসিংহে বললেও শ্রীলঙ্কান বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় পরিবর্তন আনতে চান তারা। সেজন্য হাথুরুসিংহেকে স্পষ্ট করেই সরে দাঁড়াতে বলেছে লঙ্কান বোর্ড।

হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার পর ১০ দলের টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ হিসেবে শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। সাত ম্যাচে তিনটি জয় ও চারটিতে হারে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়।

লঙ্কান বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্যই চান হাথুরুকে বরখাস্ত করা হোক। বোর্ডও তাই চায়। বাংলাদেশ সিরিজের পর কোচিং স্টাফের সবাই পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

তবে একটি জায়গায় হাত-পা বাঁধা আছে এসএলসির। তা হল, বোর্ডের সঙ্গে কোচের চুক্তি। ২০২০ সাল পর্যন্ত লঙ্কান বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত হাথুরু। এই সময়ের আগে বরখাস্ত করলে ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরো বেতন বুঝিয়ে দিতে হবে ৫১ বছর বয়সী কোচকে।

শ্রীলঙ্কান পত্রিকা আইল্যান্ডস জানাচ্ছে, চুক্তির ১৭ মাস বাকি হাথুরুসিংহের। তবে বোর্ড পুরো সময় নয়, ছয় মাসের বেতনের সঙ্গে আরও বোনাস দিয়ে করতে চায় তাকে। কিন্তু হাথুরু তাতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না। তাছাড়া এই সমস্যা সমাধানে আসতে আইনি পথেও হাঁটতে হতে পারে দুপক্ষকে। যা নিয়ে মহাবিপদে এসএলসি।

শ্রীলঙ্কা বোর্ড আর্থিক বিষয় বাদেও আরেকটি ব্যাপার নিয়ে চিন্তিত। এই সমস্যা ঠিকঠাক শেষ করতে না পারলে এবং হাথুরুকে জোরাজুরি করলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে তারা। মাত্র সপ্তাহ দেড়েক আগেই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে জিম্বাবুয়েকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

হাথুরুসিংহের আইনজীবী এই যুক্তি তুলতে পারেন যে, বিশ্বকাপের খারাপ পারফর‌ম্যান্সের জন্য কোচ দায়ী নয়। কারণ, বিশ্বকাপে দল নির্বাচন করেননি তিনি। গত ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত দল নির্বাচনের ক্ষমতা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাননি লঙ্কান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ক্রিকেটার নিরোশান ডিকেভেল্লা, দিনেশ চান্দিমাল, আকিলা ধনঞ্জয়া, ধানুশ শানাকা ও লাহিরু কুমারা। তাদের পরিবর্তে নির্বাচকরা যে পাঁচজনকে নির্বাচন করেন বিশ্বকাপের আগে ১৮ মাস ধরে কোনো ক্রিকেটই খেলেননি তারা।

আইল্যান্ডস পত্রিকা পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখাচ্ছে, হাথুরুসিংহে যখন নির্বাচক ছিলেন তখন দল অনেক বেশি ভালো ফল করেছে। ২০১৮ সালের পুরো দল নির্বাচন করেছেন হাথুরুসিংহে, সেই সময় ২০১৭ ও ২০১৯’র চেয়ে ভালো করেছে শ্রীলঙ্কা।

গত দশ বছরে প্রধান কোচদের সাথে আচরণ করার ক্ষেত্রে এসএলসির খারাপ খ্যাতি রয়েছে। এসময়ে কয়েকজন কোচকে তারা বরখাস্ত করেছে, অন্যদের ক্ষেত্রেও উদার ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান জিওফ মার্শকে ২০১১ সালে বরখাস্ত করার পর এসএলসি সেটা নিয়ে মামলাও করেছিল।

হাথুরুসিংহের বরখাস্ত আরও খারাপ হতে পারে। তাকে বরখাস্ত করলে এসএলসিকে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে হবে। আইনি পথে হাঁটলে কী হবে সেটাও অজানা।

নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব ছেড়ে ২০১৮ সালে নিজ দেশের কোচ হওয়ার পর থেকে ক্রমেই নিম্নগামী হাথুরুর পারফরম্যান্স। তার অধীনে পারফরম্যান্সের মান দিন দিন নিচে নামছিল। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলল্কা।

হাথুরুকে নিয়ে সমস্যার মধ্যেই শোন যাচ্ছে, হেড কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ডিন জোন্সের সঙ্গে আলোচনা করছে এসএলসি। ধারাভাষ্য কাজের জন্য শ্রীলঙ্কায় বেশ পরিচিত জোন্স একজন উৎসাহী কোচ এবং বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন।

বিষয়:বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট হাথুরুসিংহে

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…