হাজিদের বাড়িভাড়ার নামে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সৌদি আরবে গা ঢাকা দেওয়া হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিনকে ধর্মমন্ত্রী অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিলেও ফেরেননি তিনি।
হাব এবং কমিটির অন্য সদস্যরা তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিছুটা জটিলতা চলছে মন্ত্রণালয়ে।
একেবারে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত কোটায় হজ করতে সৌদি আরব গিয়ে সীমাহীন কষ্ট আর ভোগান্তিতে পড়েন ৫ হাজার বাংলাদেশী হাজি।
সৌদী আরবে হাজিদের বাড়ি ভাড়া এবং খাবার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিয়োগ করছেন কমিটিরই অন্য সদস্যরা।
হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, হজের ইতিহাসে এতো বড় দুর্নীতি আগে কখনও হয়নি। আমাদের মিশন থেকে এক হাজার ৩০ টাকা করে বিল নিয়েছেন আর পাহাড়ের ওপর বাড়ি নিয়েছেন ৩০০ টাকা করে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আর কেউ জড়িত নয়। এই বাড়ি ভাড়ার দায়িত্ব সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন সাহেবের ছিলো। আমরা সরকারের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ করবো এই দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
ধর্মমন্ত্রীর গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কবীর জামান বলেন, হিসাব দিতে সে বাধ্য। ধর্মমন্ত্রী নিজে তাকে ফোন করে দেশে ফিরে বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান করতে বলেছেন। এখন যদি সে দেশে না আসেন, হিসাব বুঝিয়ে না দেয়, দেশের বিদ্যমান আইনে তার বিচার হবে।
ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে এখনো সৌদি আরবেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন হাবের সাবেক এই সভাপতি। তবে এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কিছু এজেন্ট এবং আমলা জড়িত বলে সৌদি থেকে দাবি করেছেন তিনি।
তবে হাজিদের এই ভোগান্তি, সীমাহীন কষ্ট, অনিয়ম আর দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ধর্ম বিষয়ক সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান বলেন, এটা আমরা দায়িত্ব নেইনি। ধর্মমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন। এর জবাব উনিই দেবেন।
হাজিদের কষ্ট দূর করতে আগামী বছরের জন্য আগেভাগেই হজের ডাটা এন্ট্রি শুরুর কথা জানিয়েছেন ধর্মসচিব।







