সিলেট, মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদী-হাওড়-বাওড়, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি বাংলাদেশের এক অমুল্য সৌন্দর্য্য। অপরূপ ওই সৌন্দর্য্য রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার।
সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর আয়তনের হাকালুকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর। বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয় হাকালুকি।
এ হাওড়ে শুধু বিলের আয়তনই ৪ হাজার ৪শ হেক্টর। বর্ষাকালে হাওড়ের ২৩৮টি বিল ও ১০টি নদী একিভূত হয়ে ১৮ হাজার হেক্টর এলাকা রুপ নেয় সাগরের মত বিশাল জলাশয়ে। হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি ও ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি, ১৪১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ১০৭ প্রজাতির মাছ দেখা যায়।হাওড়ের আশপাশের দু’লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম এ হাওড়।
একজন জেলে বলেন, এখানে প্রচুর মাছ আছে। এখানে মাছ ধরেই আমার ৯ জনের সংসার চলে। প্রতিকূল অবস্থা থেকে হাওড় রক্ষায় গাছ লাগানো থেকে শুরু করে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
হাকালুকি হাওড়ের ইকো সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট অফিসার নাজিম হোসেন শেখ বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদফতরের অধীনে নয়টি বিলকে খনন করে অভয়আশ্রম হিসেবে প্রতিস্থাপন করেছি।
ক্লাইমেট রেজিলেন্ট এন্ড ইকো সিস্টেম প্রজেক্টের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মাযহারুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, অভয়আশ্রম প্রতিস্থাপনের কারণেই মাছ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেছে এবং মাছের প্রজনন বাড়ছে।
মাছ ধরার বিকল্প হিসেবে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে হাওড় অঞ্চলের মানুষের সেচ কাজের সুবিধায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড় রক্ষায় সরকারী উদ্যোগে হাওড়পারের ২৮টি গ্রামে ২৮টি গ্রাম সংরক্ষণ দল করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক একে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল এবং খালের পানি জমি চাষের জন্য ব্যবহার করলে মৎস্য সম্পদসহ জীব বৈচিত্রের জন্য ক্ষতি হয়। সরকারে নবায়ণযোগ্য শক্তি ব্যবহার নীতির আলোকে আমরা সৌর শক্তি চালিত তিন সেচ প্রকল্প হাকালুকি হাওড়ে স্থাপন করেছি।
হাকালুকি হাওর পরিবেশ বান্ধব পর্যটন উন্নয়নের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। হাওড়ের মাঝখানে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে একপলকে উপভোগ করা যায় হাকালুকির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। অপরূপ সৌন্দর্য্যরে এ পরিবেশ ভূমিকা রাখছে পুরো পৃথিবীর জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায়।






