বাবার দাফন শেষে রাতে কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গতকাল বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে মন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক জানান, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যাতে ইকনকে চাকরির দায়িত্ব পালন করতে না হয়, সে জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া পরীক্ষা শেষে তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়ালেখার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে একটি গণমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিকভাবে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ইকন বর্তমানে মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর শোকের মধ্যেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি সেদিন রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে ডিউটিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনের ফাঁকে বুথের ভেতরেই বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। পরদিন সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ইকনের এই সংগ্রামের গল্প প্রকাশের পর দেশজুড়ে সহমর্মিতার সাড়া পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় তার পরীক্ষাকালীন আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।







