ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে টানা দ্বাদশ রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি ট্যাঙ্কার এনসেলিয়া ও লায়লা কে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, গোষ্ঠীটির ঘোষিত ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ লঙ্ঘনের কারণে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে লায়লা ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হুথিরা জানিয়েছে, তারা ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ নীতি অব্যাহত রাখবে এবং লোহিত সাগরে তাদের নৌ অভিযান চালিয়ে যাবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডও জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া জাহাজটি সৌদি ট্যাঙ্কার এনসেলিয়া। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামুদ্রিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে একটি বিস্ফোরণের পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালীটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

আইআরজিসির দাবি, তারা তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লাগে এবং বাকি দুটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান কোনো জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে। পাশাপাশি হুথিরা যদি লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর হামলার জবাব ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ নীতিতেই দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ইয়েমেন উপকূলের কাছ থেকে পথ পরিবর্তন করেছে বলে বিভিন্ন সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জুনে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও হরমুজ প্রণালীতে হামলা-পাল্টা হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।







