কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ ভাইয়ের পরিবারকে জরুরী ব্যয় নির্বাহের জন্য নগদ এক লক্ষ টাকা, খাদ্য ও শীতবস্ত্র সহায়তা প্রদান করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ডুলাহাজারা হাসিনা পাড়ায় নিহত ৫ ভাইয়ের পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিন আল পারভেজ৷
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ জানান, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ’র নির্দেশনায় চকরিয়া মালুমঘাটে মর্মান্তিক পিকআপ চাপায় নিহত ৫ ভাইয়ের পরিবারকে জরুরী ব্যয় নির্বাহের জন্য নগদ এক লক্ষ টাকা, খাদ্য ও শীতবস্ত্র সহায়তা প্রদান করা হয়৷
তিনি পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনাটি সত্যি হৃদয়বিদারক ঘটনা। তাদের পরিবারের এই ক্ষতিটা কেউ পূরণ করতে পারবে না। তার পরে ও আমরা জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করে আসছি৷
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ান, সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. রাহাতুজ্জামান, ডুলাহাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরসহ সংশ্লিষ্টগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, দশদিন পূর্বে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সুরেশ চন্দ্র শীল। গত ২৮ জানুয়ারী সুরেশ চন্দ্র শীল মারা গেলে তার সন্তানেরা হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুসারে সৎকার কাজ সম্পন্ন করেন।
বাবা’র মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় সুরেশ চন্দ্র শীলের সন্তানেরা হিন্দু শাস্ত্রীয় ধর্মমতে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে আট ভাইবোন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসে সূর্য উঠার পূর্বে তাদের বাবার শ্রাদ্ধকর্ম ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে কক্সবাজার মহাসড়ক পার হওয়ার সময় মালুমঘাট স্টেশনের উত্তর পাশে কক্সবাজার অভিমুখী একটি দ্রুতগামী পিকআপ গাড়ি চাপা দিলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন শরণ শীল, তার ভাই চম্পক শীল, নিরুপম শীল, দীপক শীল, প্লাবন শীল ও তাদের অপর তিন ভাই-বোন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্বার করে স্থানীয় মেমোরিয়াল খ্রীষ্টান হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চার জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই ভাই ও বোন খ্রিষ্টান হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সকাল ১১টার দিকে আরও এক ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসক।
সড়ক দুর্ঘটনার নিহত ৫ ভাইয়রা হলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডস্থ হাসিনা পাড়া এলাকার মৃত সুরেশ চন্দ্র শীলের ছেলে ডা. অনুপম শীল (৪৬), তার ভাই নিরুপম শীল (৪০), দীপক শীল (৩৫), চম্পক শীল (৩০) ও রক্তিম শীল (৩৬)।
তবে ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিহতদের পরিবারকে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার এই পরিবারের পাশে থাকবে বলে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ।









