ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট। সেই ভদ্রলোকের খেলায় সর্বনাশ ডেকে আনছে স্লেজিং আর বল টেম্পারিং। এ দুই অপকর্মে ক্রিকেটের বিশুদ্ধতা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিমত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনের। শিশু থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে স্লেজিং, বল টেম্পারিং থামাতে হবে বলে মন্তব্য তার।
‘এমসিসি স্পিরিট অব ক্রিকেট কাউড্রে লেকচার’এ চলতি বছর অতিথি হয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন সাউথ আফ্রিকার সাবেক উইকেটরক্ষক রিচার্ডসন। ক্রিকেটীয় আচরণ নিয়ে নাতিদীর্ঘ এক বক্তৃতায় খেলোয়াড়দের আচরণ শুধরে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৮ বছর বয়সী ভদ্রলোক।
‘ক্রিকেট বেড়ে উঠেছে বিশুদ্ধতা দিয়ে। কিন্তু আমরা ইদানীং এমন সব আচরণ দেখছি যা খেলাটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এসব বন্ধ করা উচিত।’
‘স্লেজিং এখন ব্যক্তিগতভাবে অপব্যবহার করা হয়। ফিল্ডাররা ব্যাটসম্যানকে আউট করে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি করেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে খেলোয়াড়রা মাঠে না নামার হুমকি দেন। কেউ বল টেম্পারিং করেন।’
ক্রিকেটারদের এসব আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেয়। এমন মন্তব্য করে ক্রিকেটারদের অনৈতিক আচরণ বন্ধ করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইসিসির প্রধান কর্তা।
‘যদি এভাবে স্লেজিং চলতে থাকে তাহলে শিশুরা কী ক্রিকেটে উৎসাহী হবে? এটা মোটেও সেই খেলা নয় যা আমরা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই।’
আইসিসি স্লেজিং বন্ধে কঠোর হলেও ক্রিকেটাররা খুব একটা নির্দেশ মানছেন না। এজবাস্টনে ইংলিশ অধিনায়ক জো রুটকে আউট করার পর তাকে ব্যঙ্গ করেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ছিল আলোচনা-সমালোচনা।
খেলোয়াড়দের এমন আচরণের পেছনে কোচদেরও দায় দেখছেন রিচার্ডসন। অনেক কোচ তাদের শিষ্যদের আগলে রাখতে আম্পায়ারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিমত তার।
আর বল টেম্পারিং নিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে রিচার্ডসন বলছেন, ‘এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। আমরা এসব দেখতে ইচ্ছুক নই। আইনটা একদমই সহজ সরল; কোনভাবেই বলের চেহারা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। যদি আপনি সানস্ক্রিন মাখেন, মুখে মিন্ট কিংবা বেশি চিনি যুক্ত চুইংগাম চাবান আর সেটা যদি বলে মাখেন তাহলে সেটা সোজা অর্থে বল টেম্পারিং।’








