চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহেদী হাসান সুইজারল্যান্ডের ৭০তম লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবের ‘মুভি অফ মাই লাইফ’ বিভাগে মেইন প্রাইজ উইনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে লোকার্নোর ওপেন ডোরস-এ প্রদর্শিত হয় তার ‘আই এম টাইম’ চলচ্চিত্রটি।
এ বছর ‘ওপেন ডোরস’ হাব-এ নির্বাচিত হয়েছে নির্মাতা মেহেদী হাসানের ফিল্ম প্রজেক্ট ‘স্যান্ড সিটি’। চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বললেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহেদী হাসান তার নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রজেক্ট ‘স্যান্ড সিটি’ নিয়ে-
অভিনন্দন লোকার্নোর ‘ওপেন ডোরস’ হাব-এ ‘স্যান্ড সিটি’ প্রজেক্টটি নির্বাচিত হওয়ার জন্য। ‘স্যান্ড সিটি’ নিয়েই আলাপ শুরু করি। ‘স্যান্ড সিটি’র জন্য কোন বাংলা শিরোনাম ভেবেছেন কি? না এই শিরোনামই থাকবে ভাবছেন?
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ‘স্যান্ড সিটি’র প্রাথমিক চিত্রনাট্য প্রকাশিত হয় তপন বড়ুয়া সম্পাদিত ‘গান্ডীব’ পত্রিকায় ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায়। তখন এর নাম ছিল ‘বালুর নগরীতে’, এখনো তাই আছে।
‘স্যান্ড সিটি’র কথা মাথায় কিংবা মনে আসলো কী করে?
আমি বাসায় বিড়াল পালি। আর বিড়াল থাকলে ক্যাট লিটার-এর দরকার হয়। আমরা ক্যাট লিটার হিসেবে বালু ব্যবহার করি। বিভিন্ন জায়গা, বিভিন্ন রাস্তার মোড়, কনস্ট্রাকশন সাইট থেকে বালু সংগ্রহ করতে করতে আমি একটি চরিত্রকে নিয়ে ভাবতে শুরু করি। এই চরিত্রটি বিড়ালের জন্য বালু সংগ্রহ করে। এক ধরণের রিচুয়ালের মতো। এর মধ্য দিয়ে তার নানা ধরণের অভিজ্ঞতা হতে থাকে।
এরপর আমি আরও দু’টো চরিত্র যোগ করি। যাদের জীবনেও বালু একটি কেন্দ্রীয় উপাদান।
এই চলচ্চিত্র কোন্ শহরের গল্প বলে? এই বালুর নগরীর চরিত্রদের ব্যাপারে মেহেদী হাসান কী ভাবেন?
এটা এই শহরেরই গল্প। সবাই যাকে ‘ঢাকা’ নামে ডাকে। ‘স্যান্ড সিটি’র চরিত্ররা অস্থিতিশীল এক শহরের বাসিন্দা। যেখানে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে নদী ভরাট করা হয়। এই বালুর জমিনে তৈরি হয় দালান-কোঠা। আর বালু এক আনস্ট্যাবল এলিমেন্ট।
‘স্যান্ড সিটি’তে আলো বেশি না ছায়া? নানা রঙের বৈচিত্র্য আছে না কি ধূসরতা?
‘স্যান্ড সিটি’ আলো-অন্ধকারময়। রঙ আছে, ধূসরতাও আছে।
ওপেন ডোরস-এর ‘হাব’ নিঃসন্দেহে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলচ্চিত্রের প্রচার-প্রসারসহ প্রযোজকও খুঁজে পাবেন প্রত্যাশা করি। এ প্লাটফর্মকে কাজে লাগানোর বিস্তারিত পরিকল্পনা কেমন আপনার?
এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা হল নিজেদের ফিল্ম-প্রজেক্ট প্রযোজক এবং জুরিদের সামনে হাজির করা। কো-প্রডিউসার পেতে সেটা সাহায্য করবে।
‘স্যান্ড সিটি’ কে নিয়ে হাব-এ দাঁড়াতে নিশ্চয় স্ক্রিপ্ট এনালাইসিস, পিচিং এর প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত যদি বলেন…
পিচিং-এর আগে ‘স্যান্ড সিটি’র আরেকটা আপডেটেড ভার্সন নিয়ে কাজ করবো। সঙ্গে থাকবে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন, ফটোগ্রাফস এবং স্টোরিবোর্ড।
দেশে ‘স্যান্ড সিটি’ হলে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপার নিয়ে কিছু ভাবতে চাইছেন আপাতত?
এখনও এরকম কিছু ভাবা হয় নি।
‘স্যান্ড সিটি’-র দর্শক কারা হবেন বলে মনে হয়?
আপনি, আমি আমরা।
অনেক ধন্যবাদ। শুভ কামনা ‘স্যান্ড সিটি’-র জন্য।
আপনাকেও ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।








